আলো ডেস্ক এক্সক্লুসিভ: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আজ আপনারা (আওয়ামী লীগ) সাহসের কথা বলেন। সাহস থাকলে আপনারা কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেন। সেই সাহস তো আপনাদের নেই।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া কামনা উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সাহস বাংলাদেশের মানুষ জানে। এদেশের মানুষ তাদের পছন্দ করে যারা গণতন্ত্রের পথে। যারা স্বৈরতন্ত্রের পথে, তাদের মানুষ পছন্দ করে না।
দেশের মানুষ বেগম জিয়াকে পছন্দ করে। তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। তারেক জিয়াও দেশে আসবেন। তখন অন্যান্যের কৃতকর্মের ফল ঠিক পেতে হবে। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ গিরগিটির মতো রং পাল্টায়। আরেকটা হলো সূর্যমুখী ফুলের মতো এরা।
সূর্য যেদিকে যায়, সেও সেদিকে যায়। এদের ব্যাপারে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে পাওয়া যাবে না। আজ প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমানকে দেশে ফেরার কথা বলেন। মনে রাখবেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাকে বরণের জন্য আপনাকে ফুলের মালা নিয়েও দাঁড়ানো লাগতে পারে।
সরকার আওয়ামী লীগের ইতিহাস ছাড়া অন্য সব ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার ইতিহাসের এমন অবস্থা করেছে যে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর সকল ইতিহাসে ধুলো ময়লা বসে একাকার হয়ে গেছে। যা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতেও কয়েকশত বছর লেগে যাবে। আওয়ামী লীগ গিরগিটির মতো রঙ পালটায় আবার কখনো সূর্যমুখীর মতো যেদিকে সূর্য সেদিকে ফিরে থাকে।
এরা কখন জামায়াতের গোলাম আজমকে আপন বানায় কখন আবার তাকে শত্রু করে তা বুঝা মুশকিল, হেফজতের কখন কওমি জননী হয় আবার কখন তাদের তেঁতুল হুজুর বলে গালি দেয় সেটাও বোঝা মুশকিল। এসব বুঝতেই তো দিন রাত পার হয়ে যায়। তাই এদের হিসাব-নিকাশ করে কূল পাবেন না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেন, তারেক জিয়ার সাহস কতো। এটা অনেকটা চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলার আহ্বানের মতো মনে হয়।
এটা তো আপনার মুখে মানায় না। তিনি তো আপনার ছেলের থেকেও কম বয়সী। যদি তারেক রহমান এর উত্তরে কিছু নাও বলেন আমি বলতে চাই, আজ তারেক রহমানকে এভাবে সাহসের কথা বলছেন আপনি কেন ১৫ আগস্টের পর দেশে আসেন নি। এটা আপনার মুখে মানায় না। রাজনীতি কি বল্লম যুদ্ধের জায়গা? আলাল বলেন, শেখ মুজিবের অবর্তমানে যে চার নেতা এবং রণাঙ্গণে যারা ছিলেন তাদের সমন্বয়ে ১৭ এপ্রিল সরকার গঠিত হয়েছিল সেটাকে সরকার ঠিকভাবে স্মরণ করে না। কিন্তু নিজের বাবা-মায়ের জন্মদিন চলে এসেছে তাদের প্রথম ক্যাটাগরির সম্মানে।
কারণ এটা করলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদরা শেখ মুজিবের উপরে উঠে যায়। এই সরকার টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও এজন্য আজ পর্যন্ত এটাকে রাষ্ট্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। রাজনীতির পরিবেশকে এই সরকার নষ্ট করে ফেলেছে। যারা নতুন ভোটার হয়েছে কিন্তু চাকরি ছাড়া কোথাও আর তা ব্যবহার করতে পারেনি, তাদেরকে আমাদের শোনাতে হবে যে আমাদের একটি গৌরোবজ্জ্বল ইতিহাস আছে।
বাংলাদেশের একটি রক্তাক্ত স্বাধীনতা সংগ্রাম রয়েছে। এই সরকার দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তাহলেই ৭ নভেম্বরের মূল যে মর্মবাণী তা প্রকাশ হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সামনে এখন একটাই চ্যালেঞ্জ, সেটা গণতন্ত্র ফেরানো। আর এ সরকারকে ক্ষমতায় রেখে সেটা করা সম্ভব হবে না। এজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
সে লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজ যারা সরকারে তাদের অধীনে কোনো নির্বাচনই কাম্য নয়। তারা কখনো ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে না। দেশকে গুম-খুন থেকে রক্ষা করতে হলে এ সরকারের হাত থেকে দেশকে আগে মুক্ত করতে হবে। জাতীয় ঐক্য গঠন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) তারেক জিয়ার সাহসের কথা বলেন।
শেখ মুজিবের মৃত্যুর সময় আপনি কত বছর দেশের বাইরে ছিলেন? আপনার নামে তো তখন কোনো মামলা বা বাধ্যবাধকতা ছিলো না। আর এখন তারেক জিয়ার সাহসের কথা বলেন! এ প্রসঙ্গে মোশাররফ আরও বলেন, গত নির্বাচনে তারেক রহমান বিদেশে, বেগম জিয়া জেলে ছিলেন, তবুও আমরা নির্বাচনে গিয়েছি। আপনাদের সাহস তখন কোথায় ছিল, দিনের বেলা মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করেছেন।
বিএনপির এ অন্যতম শীর্ষ নেতা বলেন, তারা (আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা) বলে বিএনপি নেই, অথচ বিএনপিকে নিয়ে কথা না বললে তাদের সকাল শুরু হয় না। আওয়ামী লীগ তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেও হত্যা করেছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার না হলে আমরা নির্বাচনে যাবো না।
এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে সেটি হবে না, ফলে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জোটের শরিক এলডিপি (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং প্রমুখ।
