স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী পালিত ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত একক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তরুণ শিক্ষার্থীরা গ্লোবাল খাদ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের বিপরীতে স্থানীয় খাদ্য সার্বভৌমত্ব, এগ্রোইকোলজি ও জলবায়ু ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে। যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি নিরাপদ খাদ্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
২২ এপ্রিল (বুধবার) বিশ্বব্যাপী পালিত ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর এসকে ফুড সেমিনার হলে গ্রিন কোয়ালিশন, বারসিক এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী একক বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের বিষয় ছিল, গ্লোবাল খাদ্যব্যবস্থা বনাম স্থানীয় খাদ্য সার্বভৌমত্ব: টেকসই সমাধান কোথায়?
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল যুবসমাজের মধ্যে-এগ্রোইকোলজি, জলবায়ু ন্যায্যতা, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং স্থানীয় খাদ্য ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং একটি নিরাপদ খাদ্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও প্রথিবী গড়ে তোলার সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুয়েট ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া অনন্যা এবং গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য সচিব ও বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি মো. শহিদুল ইসলাম। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিচারকমন্ডলী ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রথম স্থান অর্জন করেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য তাহমিদ আরিফ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপ অব লিবারেল ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য আররাফি সিরাজী অন্তর, তৃতীয় স্থান অর্জন করেন রাজশাহী কলেজ মিরর ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য সুমাইয়া সানজিদা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা ক্রমেই বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্পভিত্তিক কৃষির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে দিনে দিনে পৃথিবীর জলবায়ু ও জীববৈচিতর্্েযর ক্ষতি হচ্ছে। একইসাথে স্থানীয় সংকট দিনে দিনে বেড়েই চলছে। স্থানীয় এলাকা উপযোগী বৈচিত্র্যময় বীজ, প্রাণবৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় কৃষক, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় খাদ্য সার্বভৌমত্ব, এগ্রোইকোলজি চর্চা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা-ই হতে পারে নিরাপদ খাদ্য ও পৃথিবীর পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর সমাধান।
সভাপতির বক্তব্যে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্বব্যাপী পালিত ধরিত্রী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী ও মানুষের ভবিষ্যৎ একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা যখন ক্রমেই শিল্পনির্ভর ও বাজারকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তখন স্থানীয় কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের খাদ্য অধিকার সুরক্ষার জন্য স্থানীয় খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজই আগামী দিনের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তরুণ প্রজন্মকে এগ্রোইকোলজি চর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জলবায়ু ন্যায্যতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু জ্ঞান ও যুক্তির বিকাশ ঘটায় না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি করে। সবশেষে তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রিন কোয়ালিশন, বারসিক এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ভবিষ্যৎমুখী বলে উল্লেখ করেন এবং একটি নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ পরিবেশ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, গ্রিন কোয়ালিশন মুভমেন্ট এর অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন, পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন এবং জলবায়ু ন্যায্যতার পক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম
