আলো রাজনীতি ডেস্ক: চতুর্দিক থেকে আমরা জাতিগতভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় আছি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই, আন্তর্জাতিকভাবে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানগুলো করছি যখন চতুর্দিক থেকে আমরা জাতিগতভাবে বিপদজ্জনক অবস্থায় আছি। প্রথমত জাতিগতভাবে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে যে লক্ষ্য ছিল, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা সেটাই আজকে সবচেয়ে বিপদের সম্মুখীন।
আজকে গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সারাবিশ্বে আমরা এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটা দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান দেখতে পাইনি।
আমরা একজন ব্যক্তির শতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠানগুলো দেখতে পেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই অনুষ্ঠানগুলোতে গোটা জাতিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, ড. মোশাররফ ইতোমধ্যে যেটা ঘোষণা করেছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ যে ‘২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে ঘোষণা সেটাকে স্মরণ করে রাখা। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দুটি অবিচ্ছেদ্য।
সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া সেই স্থান ও দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্যে আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দেশে যারা জীবিত মুক্তিযোদ্ধা, রাজনেতিক সচেতন মানুষ দলমত নির্বিশেষ সেই দিন উপস্থিত হয়ে সত্য ঘটনাকে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। তিনি আরও বলেন, শনিবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে।
গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে রুশ হামলায় মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা একটি প্রস্তাবের পক্ষে বাংলাদেশের ভোট দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, আমরা যথা সময়ে এ বিষয়ে দলের প্রতিক্রিয়া জানাবো।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম।
