আলো রাজনীতি ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, তারা একাকার হয়ে গেছে অর্থাৎ ফ্যাসিবাদের এটি হচ্ছে একটা গুণাবলী। প্রশাসন ছাড়া তারা থাকতে পারবে না। প্রশাসন কোনো কথা বললে সেটা আওয়ামী লীগেরই কথা।
গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবদুস সালামের সাম্প্রদায়িক উক্তি ও নিপুন রায় চৌধুরীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যে সততা বলতে কোন কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব।
কেরাণীগঞ্জের ওসি সম্পর্কে রিজভী বলেন, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার ঝাণ্ডা তুলে রাজত্ব করছে তাদের প্রশাসনের কাছ থেকে এ ধরনের কথা ব্যবহার পাওয়া যাবে এটা অসাধারণ কিছু না। আমাদেরকে তা মেনে নিতে হবে। কারণ রাজনীতিতে যখন আদর্শ থাকে না, রাজনীতিতে যখন ভ-ামি থাকে তখন এটা হতেই পারে। সুশীল সমাজের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে সুশীল সমাজ বলে একটি গোষ্ঠী আছে তারা কারণে-অকারণে বক্তব্য দেয়।
পারলে তারা বিএনপিকে নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা করে। কোথায় আছে সেই সুলতানা? কামাল, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির? নিপুন রায় চৌধুরীকে নিয়ে যে সাম্প্রদায়িকতা করেছে ওসি তার বিরুদ্ধে একটা বিবৃতি স্টেটমেন্ট তারা দিল না কেন? এটা আজ সবার প্রশ্ন। গোপালগঞ্জের ছাত্রীর শ্লীলতাহানির কথা উল্লেখ করে বিএনপির ওই মুখপাত্র বলেন, গোপালগঞ্জের এক ছাত্রীকে শীলতাহানি করা হয়েছে। সব ছাত্র-ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছেন।
সেই অবরোধের মধ্যে ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা করেছে। তাহলে যারা ধর্ষণ করেছে সে অভিযুক্তদের সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সম্পর্ক আছে। দেশবাসীর বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে সেই ঘটনাটি। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার। তিনি বলেন, ওসি সালাম আর গোপালগঞ্জের প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য কী? কোনো পার্থক্য নেই। তারা জানে রাষ্ট্রীয় আস্কারা আছে।
আস্কারা আছে তাই অন্যায়কারীদের ওপর আরও নির্যাতন করছেন তারা। পোশাক কারখানার মালিক বাণিজ্যমন্ত্রী হলে চায়ের দোকানদার কেমন আছেন তিনি বুঝবেন কেমন করে এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ছেই। বাড়বে তো কারণ দেশের সাধারণ জনগণ বাঁচলো না মরলো সেটা দেখার বিষয় তাদের না।
সংগঠনের আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড প্রমুখ বক্তব্য দেন।
