আলো ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে চলমান সংলাপে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল শনিবার দুপুরে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইসলামি আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। আর গতকাল শনিবার সিপিবি কর্তৃক রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো চিঠিতে এ অপারগতার বিষয়ে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি রেজাউল বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে দেশের চিন্তাশীল মহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে আমরা কোনো আগ্রই দেখতে পাচ্ছি না। বরং জনগণ মনে করছে, রাষ্ট্রপতির সংলাপে ফলপ্রসূ কিছু হবে না।
অতীতের দুটি সংলাপ যেমন জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, চলমান সংলাপেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে জনগণ মনে করে না। অতএব, জনগণের আকাক্সক্ষার বিপরীতে গিয়ে এমন একটি আবেদনহীন ও তাৎপর্যহীন সংলাপে অংশ নেওয়াটা ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সঙ্গত মনে করে না। তিনি বলেন, আমরা ২০১২ ও ২০১৭ সালের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো, আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। ২০১২ এর সংলাপে গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করেছে, যেখানে ১৫৩ জন এমপিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী দেখানো হয়েছে।
আর ২০১৭ এর সংলাপের পর গঠিত কমিশন ২০১৮ সালে একটি চরম বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেছে। যাকে অনেকেই মধ্যরাতের নির্বাচন বলে আক্ষায়িত করে থাকে। এই দুই জাতীয় নির্বাচন এতটাই বিতর্কিত ও জালিয়াতিতে পূর্ণ যে, তা জাঁতি হিসেবে আমাদেরকে চরম হতাশ, বিব্রত ও লজ্জিত করেছে। ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, হতাশাজনক ব্যাপার হলো, এই ইসির নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতি এসব কলঙ্কময় নির্বাচনের দায়ে তারই গঠিত কমিশনকে কোনো রকম জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি, কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি একটি ফলপ্রসূ সংলাপের উদ্যোগ নিতে পারেন। জনগণের আকাক্সক্ষার আলোকে এমন একটি সংলাপ হলে, তাতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ অবশ্যই অংশ নেবে।
অন্যদিকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ রক্ষায় অপারগতা প্রকাশ করেছে সিপিবি। নতুন জাতীয় নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি সোমবার সিপিবিকে আমন্ত্রণ জানান। এতে বলা হয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। কিন্তু অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সেটাই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক গলদ দূর করতে না পারলে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না।
এ মৌলিক বিবেচনা থেকে সিপিবি নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ সহ ৫৩টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশমালা ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে আপনার কাছে প্রদান করেছিল। এ অবস্থায় হুবহু একই আলোচ্য সূচিতে ও একই প্রকরণের আরেকটি সংলাপে যোগ দিয়ে সিপিবির নতুন কোনো কথা বলার নেই। সে কারণে তাতে যোগদান করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছি না। আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিপিবি নেতারা চিঠিতে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের অপারগতার কথা অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে আরও বলা হয়, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সংবিধানসম্মতভাবে একটি নির্বাচন কমিশন মনোনীত করা জরুরি বিধায় আপনার কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনি জাতীয় সংসদকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে আগামী এক মাসের ভেতরে ‘নির্বাচন কমিশন আইন’ প্রণয়ন করে তা স্বাক্ষরের জন্য আপনার কাছে পাঠাতে বলুন। তাহলে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নের আগে সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আপনার বৈঠকের প্রয়োজন পড়বে না।
