আলো ডেস্কঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের সবধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ডা. দীপ মনি বলেন, যেহেতু ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ বা জানুয়ারির শুরুর দিকে আগামী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা, সেজন্য আমরা আমাদের সব শ্রেণির যে বার্ষিক পরীক্ষা আছে এবং আমাদের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রিণির যে মূল্যায়ন হবে, বার্ষিক পরীক্ষাও হবে, সেই কার্যক্রমগুলো ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চাই। তা না হলে নির্বাচনের প্রচারের সময়টায় গেলে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গ্রীষ্মের ছুটিটা আমরা বাতিল করে দিয়েছি। আমরা শীতের ছুটির সময়টা বাড়িয়ে দেবো, এটা আমরা ওখানে সমন্বয় করবো। আমরা আশা করবো, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের যেকোনো কর্মসূচিই দিন না কেন, সেই কর্মসূচির কারণে যেন আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে। তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করেন, আমরা বিশ্বাস করি- রাজনীতি মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা।
সেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে জিম্মি করে যেন কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করেন। জনগণের কাছেও নিশ্চয়ই সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমাদের সন্তানদের জীবনকে জিম্মি করে কেউ যদি রাজনীতি করতে চান, সেটা তো আসলে রাজনীতি হবে না, সেটি হবে অপরাজনীতি। এর আগে মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মোট পাস করেছে ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ জন।
এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪০৪ জন এবং ছাত্রী ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৮৪ হাজার ৯৬৪ জন এবং ছাত্রী ৯৮ হাজার ৬১৪ জন। গত বছর (২০২২ সাল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার প্রায় ৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর (২০২২ সাল) জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। সেই হিসেবে এবার জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৮৬ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর এসএসসিতে পাস করেছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। এবার পাস করেছে ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ জন। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৯ জন কম। যদিও গতবারের চেয়ে এবার ৪৭ হাজার ৩১৩ জন বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এবার ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ কী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর পূর্ণ নম্বরের ওপর পরীক্ষা হয়নি। অল্প কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছিল। সময় অল্প ছিল, প্রশ্নপত্র কম ছিল। কিন্তু এবার তো পূর্ণ নম্বরের এবং সব বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হয়েছে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার ফলাফলে তার একটা প্রভাব পড়েছে।
পাসের হার, জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। তবে, যথাসময়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. দীপু মনি বলেন, এ বছর পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬০তম দিন আজ (শুক্রবার)। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করছি। যদিও করোনা মহামারির কারণে এবার যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
আমরা পর্যায়ক্রমে সময়সূচির বিপর্যয় কাটিয়ে উঠছি। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষা বোর্ডগুলো যথাসময়ে শুরু করতে পারবে বলে মনে করি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডর চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকারসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
