আলো ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় পাঁচ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো সিহাব মিয়া (২৮) নারীর ক্ষমতায়ন পছন্দ করতেন না। নারীরা কেন ঘরের বাইরে যাবে, তারা কেন প্রধানমন্ত্রী হবে? এমন বিদ্বেষ থেকেই তিনি নারীদের সহ্য করতে পারতেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর ছাবর বাড়ি সংলগ্ন রেললাইনের কাছে পাঁচ নারীকে কুপিয়ে জখম করেন সিহাব। ওই ঘটনায় পরে আরজুদা (৫০) ও রাবেয়া বেগম (৫৫) মারা যান।
আহত হন- খালেদা বেগম (৪৪), সাজেদা বেগম (৫২), নয়ন মনি (১৪)। নিহত ও আহতরা সবাই ভাদুঘর এলাকার বাসিন্দা এবং একে অপরের প্রতিবেশী। গতকাল শুক্রবার সকালে সিহাবের প্রতিবেশী জাবেদ মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে সিহাব দা নিয়ে তার মা লাকি আক্তারকে এলাকার মধ্যে ধাওয়া দেন। পরের দিন বুধবার দুপুরে সিহাব রেললাইন দিয়ে হেটে যাওয়া পাঁচ নারীকে কুপিয়ে আহত করেন। নারীরা কেন ঘরের বাইরে থাকবে। নারীরা কেন প্রধানমন্ত্রী হবে এই বিদ্বেষ থেকেই নারীদের সহ্য করতে পারতেন না তিনি।
সিহাবের প্রতিবেশী চাচী নাম না বলার শর্তে বলেন, ছোট থেকেই শান্ত প্রকৃতির ছিলেন সিহাব। তিনি যত বড় হতে থাকেন ততই পরিবারের সঙ্গে রাগারাগি করতেন। বাইরের মানুষদের পাশাপাশি তিনি সমবয়সী ছেলেদের সঙ্গেও ঝগড়া করতেন। আমাদের মাথায় কাপড় না থাকলে তিনি কাপড় দিতে বলতেন। তিনি আমাদের বুঝাতেন। তার ওপর মনে হয় জিনের নজর পড়েছে।
তিনি নারীদের সহ্য করতে পারতেন না। প্রতিবেশী রাফিউজ্জামান সম্পদ বলেন, ৫ বছর আগে রমজান মাসে আমার বাবা মসজিদে আছরের নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে সবাই যখন বের হয়ে যান তখন সিহাব একা মসজিদে বসে থাকেন। তখন আমার চাচা মো. হেলিম মসজিদের লাইট-ফ্যান বন্ধ করার কথা বললে সিহাব তা বন্ধ করেননি। পরে চাচা গিয়ে সব বন্ধ করেন। কেন মসজিদের লাইট-ফ্যান বন্ধ করেছেন এ নিয়ে তখন সিহাব বকাবকি করতে থাকেন। এমনকি ঘটনাটি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
পরে আমার বাবা সিহাবকে বুঝাতে গেলে তিনি আমার বাবার গায়ে হাত তোলেন। পরে আমরাসহ এলাকার সবাই দরবার শেষ করতে গেলে সিহাব এবং তার পরিবার আমাদের ৮ জনের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে হাজিরা দিচ্ছি আমরা। তিনি আরও বলেন, যেদিন (বুধবার) ঘটনা ঘটেছে সেদিন সিহাব নারীদের আঘাত করছিলেন আর বলছিলেন নারী কেন প্রধানমন্ত্রী হবে, নারী থাকবে ঘরে। প্রতিবেশী মোহাম্মদ মোফাচ্ছেল বলেন, ঘটনার পর থেকে এলাকার সবাই সিহাবের মা লাকি আক্তারকে দুষছেন।
কারণ লাকি আক্তার তার ছেলেকে সব কিছুতে প্রশ্রয় দিতেন। সিহাবের দোষ থাকলেও তিনি ছেলের পক্ষ নিয়ে এলাকার ব্যক্তিদের নামে মামলা দিতেন। সিহাবের দায়ের আঘাতে মারা যাওয়া আরজুদা বেগমের মেয়ে লুৎফা বেগম সিহাবের ফাসির দাবি করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘সিহাব নারী বিদ্বেষী ছিলেন।
তিনি নারীর ক্ষমতায়নকে পছন্দ করতেন না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সিহাব ২০১৮ সালে কাউতুলি রেসেডেন্সিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। এরপর কোথায় পড়ালেখা করেছেন তা কেউ বলতে পারেন না। তার মাথায় সমস্যা ছিলো নয়তো এতজনকে কুপিয়ে হত্যা ও আহত করতে পারতেন না তিনি।
