আলো ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি সালাউদ্দীন টুকু বলেছেন, বঞ্চিত তরুণদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারুণ্যের সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ শনিবারের বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। টুকু বলেন, তরুণ সমাজ প্রস্তুত, জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তারা এখন এই সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়। এখন আর কোনো প্রতিবাদ নয়, সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ভোট ও চাকরি থেকে বঞ্চিত তরুণদের নিয়ে আমাদের তারুণ্যের সমাবেশ।
এর আগে পাঁচ বিভাগে সফলভাবে তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়। জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছে বিএনপি। আর আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ছাড়া সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারুণ্যের সমাবেশের মাধ্যমে তরুণ সমাজ উজ্জীবিত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ বছর ধরে যারা ভোট দিতে পারেননি তাদের একটা আবেদন আছে এই সমাবেশ ঘিরে।
এই তরুণরা সরকার পতনের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবেন এবং সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। বারবার জীবন দিয়ে তরুণরা প্রমাণ করেছেন যে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা। আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে সহিংসতা চালাচ্ছে। তাদের অধীনে কেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তা সবাই বুঝতে পারছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার আহ্বান জানান টুকু। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, আগামীকালের (আজ শনিবারের) ঢাকার তারুণ্যের সমাবেশে নতুন জাগরণ ও গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।
তারুণ্যের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। তরুণদের নিয়ে রাজপথে এ ফ্যাসিবাদী সরকারকে রুখে দেবো। জিলানী বলেন, সমাবেশের প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের সমন্বয়ে এ সমাবেশ হবে। দেশের যুব সমাজের যারা অধিকারবঞ্চিত, চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার তাদের আমরা ঐক্যবদ্ধ করছি মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে। চার কোটি ৭০ লাখ তরুণ গত ১৪ বছরে ভোট দিতে পারেনি দাবি করে তিনি বলেন, তারা অধিকারবঞ্চিত।
গত ৫টি বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। সমাবেশ ঘিরে কোনো বাধার শঙ্কা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে জিলানী বলেন, বাধা দেওয়া তো এ সরকারের নিত্যদিনের কাজ। সেটি মাথায় রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির চলমান আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বড় শহরে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এরমধ্যে গত ১৪ জুন চট্টগ্রাম, ১৯ জুন বগুড়া, ২৪ জুন বরিশাল, ৯ জুলাই সিলেট ও ১৭ জুলাই খুলনায় ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ হয়েছে। ২২ জুলাই ঢাকায় ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ করবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
