আলো ডেস্ক: বিদ্যুৎসহ চলমান নানা সংকট সরকারকে পতনের দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। জনগণ ফুঁসে উঠছে এবং সরকারের পতন তরান্বিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুর্নীতি, পরিকল্পনার অভাব এবং অযোগ্যতার কারণেই লোডশেডিং ও জনভোগান্তি। এই সংকটের প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। শ্রীলঙ্কায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তারই শুরু।
দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিরুদ্ধে জনরোষকে ভিন্নদিকে নিতে পরিকল্পিতভাবে নড়াইলে সাম্প্রদায়িক হামলা দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করবে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবে।
সরকার বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যার মূল কারণ চুরি ও দুর্নীতি। আর এর মূল্য দিতে হচ্ছে জনগণকে। দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওয়াসার পানির দাম এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক ৫৩টি অত্যাবশকীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে।
অবিলম্বে পানি ও ওষুধের মুল্য হ্রাসের দাবি জানানো হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন সমূহকে মহানগর এবং ওযার্ড পর্যায়ে প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের তলোয়ার নিয়ে বক্তব্য অহায়ত্বের প্রমাণ। এ কমিশনের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়।
গত ১৬ জুলাই রাতে সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র নিয়ে আসার সময় ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। এছাড়াও বন্যার কারণে স্থগিত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর কথা জানান তিনি।
