আলো ডেস্ক: আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তার জামিনের বিষয়ে জারি করা রুল তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কারাগারেই থাকছেন সাবেক মেয়র মুক্তি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে করা এ-সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এদিন আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৭ এপ্রিল সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন মঞ্জুর করেছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। যেটি গতকাল সোমবার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে মামলায় রায় ঘোষণার দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে কলেজপাড়া এলাকায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এ দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে আমানুর রহমান খান, তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর কারাভোগের তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। তার অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
