আলো জা তী য় ডেস্ক: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর জন্মের মধ্যদিয়ে একজন রূপকারের জন্ম হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাংলাভাষা একসূত্রে গাঁথা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবি সদরদপ্তর পিলখানার সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক। দিনটি উপলক্ষে বিজিবি সদরদপ্তরসহ অন্যান্য ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১১টায় বিজিবি সদরদপ্তরসহ অন্যান্য সব ইউনিটে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর বিশেষ আলোচনা এবং ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও ‘সতীর্থ এসো সত্যাশ্রয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক তার বক্তব্যের শুরুতে বিজিবির সব সদস্যের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির দিশা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এ ভাষণ ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া ও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর রয়েছে দীর্ঘ কারাবরণের ইতিহাস। বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বাদ এবং স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম ও অকাতরে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন সহজসাধ্য ছিল না। বঙ্গবন্ধু অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনাসহ পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, শিল্পনীতি, খাদ্যব্যবস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করে বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজে ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখিয়েছিলেন।
মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এলক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি। তার স্বপ্নপূরণে তারই সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অদম্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি মহাপরিচালক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার জন্য সবাইকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে দৃপ্ত অবদান ও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাদ যোহর পিলখানার কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য দোয়া এবং দেশ ও মানুষের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
এসব অনুষ্ঠানে বিজিবির সব পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা, সৈনিকসহ সব বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পিলখানাসহ সারাদেশে বিজিবির সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
