আলো সা রা দে শ ডেস্ক: তিনদিন ছুটির কারণে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় গাড়ির তীব্র জট সৃষ্টি হয়েছে সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে। এতে দেখা যায় তীব্র জানজট, ভোগান্তি পোহাতে হয় ঘরমুখো মানুষদের। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৃথক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের ১৩ কিলোমিটার অংশে আট ঘণ্টা তীব্র যানজটের পর গাড়ি চলাচল করে ধীরগতিতে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলে এলেঙ্গার পুংলী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় তীব্র যানজটের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে গাড়ি চলাচলে ধীরগতি রয়েছে। তিনি বলেন, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের সীমানায় ১৫ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি মালবাহী ট্রাক উল্টে যায়।
এ সময় সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে গাড়ির জট তৈরি হয়। ওই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ৭টার দিকে সেতুর পূর্বপাড়ের টোল প্লাজার সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস ও দুটি ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে তীব্র যানজট বেঁধে যায়। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে নলকা সেতুর পূর্বপাশে একটি লেন থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের সয়দাবাদ থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছিল। এ ছাড়া ঝঐল ওভারব্রিজ থেকে নলকা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট ছিল।
নলকা থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত গাড়ি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। হাটিকুমরুলে তিনটি মহাসড়ক মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজট ছিল। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের নলকা সেতু এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার যানজট ছিল। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের নলকা এলাকায় সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় যে লেনটি বন্ধ ছিল সেটি আপাতত চালু করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে মহাসড়কের যানজট কিছুটা কমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, কাজ চলায় সয়দাবাদ এলাকা থেকেই মহাসড়কের কোথাও কোথাও খুবই ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট: টানা তিনদিনের ছুটিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চালক এবং যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের লাঙ্গলবন্দ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড অংশে তীব্র যানজট। অনেকে গন্তব্যস্থলে না গিয়ে বাসায় ফিরে আসছেন।
অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা যেতে ২০০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা, চট্টগ্রাম যেতে নন-এসি গাড়িতে ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা এবং এসি গাড়িতে ৮০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বেশি ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর নানা কারণ দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন, তীব্র যানজটের কারণে তাদের গাড়ি সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে তারা ভাড়া একটু বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তীব্র যানজটের বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সাজ্জাদ করিম খান বলেন, গতকাল (গত বুধবার) রাতে মদনপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। এ কারণে এক ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া টানা তিনদিনের ছুটি থাকায় মহাসড়কে বাড়তি গাড়ির চাপ রয়েছে। তবে আশা করছি দুপুরের আগেই যানজট কমে যাবে। যানজট নিরসনে পুলিশের টিম কাজ করে যাচ্ছে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে তীব্র যানজট: এদিকে তীব্র যানজট দেখা গেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। গত বুধবার রাত থেকে পাটুরিয়া ঘাটে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মহীউদ্দিন রাসেল জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু-দিবস, শবে বরাত ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিনদিনের ছুটিতে মানুষের চাপ বেড়েছে পাটুরিয়ায়। বিশেষ করে ছোট গাড়ির চাপ অনেক বেশি।
পাটুরিয়া ঘাট ও সড়কে দুইশ’র মতো ছোট গাড়ি, একশ’র মতো বাস ও পাঁচ শতাধিক ট্রাক পরাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায়ও যানজট রয়েছে বলে জানান রাসেল। এদিকে বিআইডব্লিউটিসির (দৌলতদিয়া ঘাট) সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কয়েকদিন ধরে যানবাহনের চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। বাস আর ছোট গাড়ি অগ্রাধিকার দিয়ে ট্রাক আটকে রাখতে হচ্ছে।
