আলো ডেস্ক: চাল ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলা পর্যায়ে এক হাজার ৭৬০ ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসে চাল ও আটা বিক্রি করা হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ওএমএস সারা বছরই চালু আছ। ৭৩০ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস চালু আছে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) থেকে উপজেলা পর্যায়ে এক হাজার ৭৬০ জন ডিলারের মাধ্যমে ওএসএম চালু হবে। ওএমএসের প্রতি কেজি চালের দাম ৩০ টাকা ও আটার দাম ১৮ টাকা। একজন সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে আটা ও চাল পাবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলেও জানান সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, আমাদের চালের মজুত সর্বকালের সর্ববৃহৎ।
সেটা মানসম্মত চালের মজুত। আশা করি মানুষ এই চাল নিয়ে খাবে। নানা ক্ষেত্রে চালের ব্যবহার বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস আপনাদের মনে রাখতে হবে- আগে গরু ভারত থেকে আসতো। এখানে গরুর কোনো খামার ছিল না। কোরবানির গরু বলেন আর খাওয়ার মাংসের জন্য গরু বলেন, সব ভারত থেকে অবৈধ পথে আসতো।
এখন কিন্তু আমাদের দেশে ভারত থেকে গরু আসে না। এখন দেশেই গরু উৎপাদন হয়, অনেক খামার। গরু মোটাতাজা করার জন্যও কিন্তু অনেক মোটা চাল চলে যায়। গরুকে ভাত খাইয়ে কোরবানির জন্য রেডি করে। চালের কিন্তু হাহাকার নেই। আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। হিউম্যান ও নন-হিউম্যান কনজাম্পশন, দুটোই বেড়েছে। বছরে ২৫ লাখ লোকের মুখ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের সরু চাল খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একজন রিকশাচালকও সরু চাল খেতে চায়, তাই সরু চালের ওপর চাপ একটু তো পড়েছেই।
করপোরেট কোম্পানিগুলো বাজার থেকে সরু চাল কিনে প্যাকেটজাত করছে। এখানে বাজারে সর্টেজ পড়ছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরু চালের এখন অফ সিজন, বোরো সিজনে একটা উৎপাদন হবে। আমরা এটা (সরু চালের দাম) কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও চালের দাম বেড়েছে জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, যদি মনে করি মিনিকেট বলে কোনো ধান নেই, মিনিকেট ব্র্যান্ড আছে। ভারতের মিনিকেট ব্র্যান্ড যেটা আনা হয়, আমরা ৬৫ শতাংশে থেকে ২৫ শতাংশে এনে দেওয়ার পরও ১৭ লাখ টন চালের অনুমোদন দিয়ে মাত্রা তিন লাখ ১০ হাজার টন পেয়েছি। এরমানে ওখানে প্রতি কেজিতে দাম ৮ থেকে ৯ বেড়েছে।
তাই সেটা এনে তাদের এখানে পোষাচ্ছে না। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চিকন চাল আমদানির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী। গত বছরের মতো এবারও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৫০ টাকায় পৌঁছে গেছে। চালের বাজারের লাগাম টানতে গত বছরও শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানি করেছিল সরকার। চাল আমদানি শুল্ককর কমানোর অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এরপর গত ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। এই সুবিধা গত বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল ছিল। গত বছরের ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাত্র তিন লাখ টনের মতো চাল আমদানি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেছেন।
এজন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি কোনো নির্দেশনা ছিল কি না- জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দেশ তো রয়েছেই। খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ আছি, আমাদের খাদ্য মজুত আছে। ওএমএসটা যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, ডিসিদের সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মনিটরিং টিমের মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম করা হবে। কোনো মজুতদার যদি মজুত করে থাকে, সেটাও চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দরকার হলে তাদের মোবাইল কোর্ট করা এবং মজুত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার করার নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা টাস্কফোর্স করে মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুমও করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা ফাইল পাঠিয়েছি। আরও ট্যাক্স কমিয়ে কিছু সরু চাল বেসরকারিভাবে আমদানি করা যায় কি না।
এটা আমরা আলাপ করে ফাইল পাঠিয়েছি। তবে এটা ঠিক, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস- আমরা সুষ্ঠু মনিটরিংয়ে আছি। আপানারাও (সাংবাদিক) যদি মনিটরিংয়ে থাকেন, কোনো অবৈধ মজুতের বিষয়ে যদি আমাদের তথ্য দেন, আমরা যদি ওখানে হানা দিতে পারি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস চালের দাম আনকন্ট্রোল্ড হওয়ার কোনো অবস্থা নেই- বলেন সাধন চন্দ্র মজুমদার।
