আলো ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, রাজনীতি সচেতন না হলে সফল মানুষ হতে পারবে না, সুনাগরিক হতে পারবে না, তুমি তোমার নিজের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন না। রাজনীতি করো বা না করোÑ কেউ রাজনীতির বাইরে নয়। তাই শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতন হতে হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাইকে রাজনীতি সচেতন হতে হবে। এই ক্যাম্পাসে আসার পর ছাত্র রাজনীতিকর সঙ্গে যুক্তদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এটি আমার ভালো লেগেছে। অর্থাৎ এই ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। আমার দু’টি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভয় পেয়েছি। কারণ সেখানে লেখা আছে ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। অর্থাৎ ধূমপানের মতো রাজনীতিটাও পরিত্যজ্য; সেই প্রতিষ্ঠান এই মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনের সব ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতে ভালো-মন্দ আছে।
কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাজনীতি ভলো নয়। রাজনীতি সেই জয়গা, যেখানে জীবনের সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমাদের ব্যক্তি জীবনটা কেমন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেই। কিন্তু আমাদের জীবন-জীবিকা কেমন চলবে, দেশটা কেমন হবে, আমার লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে কি থাকবে না, খবারের সংস্থান হবে কি হবে না, কাজের সংস্থান হবে কি হবে না, সকালে উঠে কলটা চালালে পানি আসবে কি আসবে না, সেই সিদ্ধান্তগুলো যেখানে গৃহীত হয় সেটাই রাজনীতি।
সেখানে দায়িত্বে পাশাপাশি ক্ষমতারও একটি যোগ আছে। সেখানে কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক আসতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, রাজনীতি জায়গা ঠিক নয়। মানুষের জন্যই রাজনীতি করতে হবে। মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক জীব। রাজনীতির বাইরে কেউ নয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বেও মানুষ নয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করো বা না করো, সেটা একেবারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপচ্ছন্দের ব্যাপার।
দলীয় রাজনীতি করবে কি করবে না সেটাও তোমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাজনীতি সচেতন না হয়ে তুমি সফল মানুষ হতে পারবে না, সুনাগরিক হতে পারবে না। কারণ তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তোমার সিদ্ধান্ত, তোমার দেশের সিদ্ধান্ত কে নেবে সেই সিদ্ধান্ত তুমি সঠিকভাবে নিতে পারবে না। তাই তোমাকে রাজনীতি সচেতন হতেই হবে।
ভালো আর মন্দের দফাৎ বুঝতেই হবে, সাদা আর কালোর তফাৎ করতে জানতেই হবে। এসময় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন দীপু মনি। তিনি বলেন, রাজনীতির নামে অনেক কিছু দেখেছি।
রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে দেখেছি, ষড়যন্ত্র দেখেছি। রাজনীতির নামে দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা দেখেছি, নারীদের হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিতে দেখেছি। রাজনীতির নামে জাতির পিতাকে হত্যা করতে দেখেছি। তাকে হত্যা করে কোন রাজনীতি করা হলো? শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতি সেটাই যার মধ্যে থাকে দেশের জন্য ভালোবাসা, দেশের সেবা, মানুষের জন্য ভালোবাসা, মানুষের সেবা।
আশাকরি তোমরা সবাই রাজনীতি করো বা না করো, সেই রাজনীতির সঠিক পথ তোমরা বেছে নিতে পারো। সব শিক্ষার্থীকেই করোনার টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে টিকা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিস্তৃত পাঠদান কবে শুরু করতে পারবো আমরা বলতে পারছি না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মার্চ মাসে সংক্রমণ বেশি বাড়ছে। কাজেই আমাদের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কী অবস্থা দাঁড়ায় সেটা দেখার জন্য। তবে সংক্রমণ বাড়বে কিনা, কতটা বাড়বে, আমাদের কতটা মূল্য দিতে হবে তার সব কিছু নির্ভর করছে আমাদের সবার ওপর। সবাইকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
একটু স্বস্তির জায়গায় এসেছিলাম। শতকরা একভাগে নিয়ে এসেছিলাম করোনায় দৈনিক সংক্রমণের হার। এখন এটা তিন ভাগে। এটা যেন না বাড়ে সেভাবে চলতে হবে। আমাদের হাতেই কিন্তু এ হার বাড়া না বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। আমরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।
