আলো ডেস্ক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ‘বঞ্চনার শিকার হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত’ দাবি করে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এ ‘বঞ্চনা’র অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। নেতৃদ্বয় বলেন, যে ইউনেস্কো আইএলও সনদের ভিত্তিতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ নির্ধারিত হয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শিক্ষকদের সেই অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি। স্বাধীনতার ৫ দশকেও শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্যের কারণে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বেসরকারি শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার হয়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেন ন্যাপ নেতারা। তারা বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষক বঞ্চনার অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষকরা আদর্শ ও মানবতাবাদী জাঁতি গঠনের কারিগর হলেও আমাদের দেশে তাদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ে শিক্ষকসমাজ হতাশায় নিমজ্জিত। অথচ জাঁতি গঠনে তাদের অবদান অসামান্য। ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বব্যাপী সব সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সর্বাধিক। তারাই সমাজের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষকদের অবস্থা তেমন নয়। দেশে শিক্ষকরা সমাজে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের অবস্থা শোচনীয়। আর্থিক দৈন্যদশা ও সামাজিক বঞ্চনা দেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাদের বঞ্চনা-দুঃখ বেশির ভাগই অব্যক্ত। করোনাকালে ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নন-এমপিওসহ সর্বস্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাঝে মধ্যে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষকদের আর্তনাদের দু-একটি চিত্র জানা যায়। এতেই বোঝা যায় বেসরকারি শিক্ষকরা কেমন আছেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সরকারি আশ্বাস ও দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এসব শিক্ষক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের পারিবারিক জীবন দুদর্শাগ্রস্ত। করোনাকালে তাদের জনপ্রতি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাও অনেকে পাননি। শিক্ষক সমাজের করুণ দশা জাতিকে লজ্জিত করে। তাদের বঞ্চনা সামাজিক বিবেকবোধকে দংশন করে। নেতৃদ্বয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সরকারের কাছে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো, সবার চাকরি জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের সব বৈষম্য-বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
