রা জ শা হী র আ লোঃ –ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
(গত ২০ তারিখে প্রকাশিত হওয়ার পরের অংশ) রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর সূত্র থেকে জানা যায় যে,এখানে সংগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। মোগল শাসন থেকে বৃটিশ শাসন পর্যন্ত সময়ের রৌপ্য, ব্রোঞ্জ, মিশ্র ধাতবের ৪০০ মুদ্রা, ৬১টি লেখচিত্র, প্রায় দেড় হাজার পাথর ও ধাতবমূর্তি, ২ হাজারের মত প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ভাস্কর্য, পত্র ও ফলক প্রায় ৯০০,৬০টি প্রাচীন অস্ত্রশস্ত্র, বেশকিছু আরবী -ফারসী দলিল, সাড়ে ৪ হাজারের মত পান্ডুলিপি আছে এই জাদুঘরে।
জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষের ১৪টি গ্যালারিতে সাজানো আছে এইসব জিনিস। ইসলামী গ্যালারিতে আছে হাতে লেখা কোরআন শরীফ, মোগল আমলের পোশাক। এই জাদুঘরে আছে প্রাচীন আমলের ঢাল-তলোয়ার, ধাতব-পাত্র, মহেঞ্জজোদারো, ঐতিহাসিক মহাস্তানগড়ের বিভিন্ন নিদর্শন। এখানে আরও আছে প্রাচীন আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা লেখচিত্র, পাল বংশ, সুলতানি বংশ, মোগল আমলের শিলালিপি, শেরশাহর ২টি কামান ও মেহরাব। রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ মহল্লায় এই জাদুঘরটির অবস্থান।
১৯১০ সালে নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদার কুমার শরৎ কুমার রায়, রাজশাহীর খ্যাতনামা আইনজীবী অক্ষয় কুমার মৈত্রয়ে, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সেই সময়ের শিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দ্র এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বৎসর তাঁরা প্রাচীন ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি” গঠন করেন।
এই সমিতি বিভিন্ন স্থান থেকে কালো পাথরের বিখ্যাত গঙ্গামূর্তিসহ পুরাতত্ত্বের ৩২টি প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নিদর্শনগুলি সংরক্ষণের জন্য একটি জাদুঘর ভবন নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়লে শরৎ কুমার নির্মাণ কাজে হাত দেন। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শেষে ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর এই জাদুঘরের দ্বার উন্মোচন করেন এই বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড রোনাল্ডসে।
ইহার পর ১৯৬৪ সালে এই জাদুঘরটি পরিচালনার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখনও এই জাদুঘরটি দেখাশুনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সরজমিনে গিয়ে আমাদের প্রতিবেদক দেখতে পান যে, এই জাদুঘরটির একটি গেট খোলা। সেখানে ২জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিতরে বারান্দার এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রাচীন নিদর্শনগুলি। এই জাদুঘরে দায়িত্বরত আনসারদের সহকারী প্লাটুন কমান্ডার মোঃ লোকমান হাকিম আমাদের প্রতিবেদককে জানান, আমরা মোট ১০ জন এখানে দায়িত্ব পালন করি। এতবড় একটি জাদুঘরের নিরাপত্তায় দিনরাত সব সময় ২ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
প্রত্যেক আনসার সদস্যের ডিউটি ৪ ঘণ্টা করে। এই আধুনিক যুগে এসেও এই জাদুঘরটিতে ক্লোজ সার্কিট( সিসি) ক্যামেরা লাগানো হয়নি এখন পর্যন্ত। এই জাদুঘরের পরিচালক ড; আলী রেজা মুহম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইহা ২ বৎসর আগের কথা।
গত “করোনা ভাইরাসে” এই জাদুঘরটি বন্ধ থাকার কারণে এই বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা হয়নি। এই ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম আমাদের প্রতিবেদককে বলেন যে,এই জাদুঘরের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা একান্ত দরকার,জনবলও দরকার। সেইগুলির ব্যবস্থা অচিরেই আমরা করব। এই বিষয়ে আমাদের চিন্তা -ভাবনা আছে,আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
