স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণ খেলাপি, হলফনামায় ত্রæটি ও ভোটার সমর্থনের অনিয়মের কারণে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ছয়টি আসনে মোট ৩৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ এবং তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নে বৈধতা পেয়েছেন- বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ (সমর্থনকারী তালিকায় দুইজন মৃত ভোটার, চারজনকে পাওয়া যায়নি এবং স্বাক্ষর সংক্রান্ত অসঙ্গতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক (আয়-ব্যয় বিবরণীতে স্বাক্ষর না থাকা, ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল ও ছয়জন সমর্থককে না পাওয়া), ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ শাহজাহান (দলের সভাপতি নুরুল হক নূরের স্বাক্ষরের সঙ্গে জমাকৃত স্বাক্ষরের অমিল)
রাজশাহী-২ (সদর) এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ এবং তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নে বৈধতা পেয়েছেন- বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মেয়র-এমপি মিজানুর রহমান মিনু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম ও নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন (আয়-ব্যয় বিবরণীতে স্বাক্ষর না থাকা, সমর্থনকারী তালিকায় মৃত ভোটার ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, কর ফাঁকি), লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়াহিদুজ্জামান (ব্যাংক ঋণ খেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ উদ্দিন (আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকা ও ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনে গরমিল)।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) এই আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ এবং চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নে বৈধতা পেয়েছেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবজাল হোসেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান (হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা) ও আমজনতার দলের প্রার্থী সাঈদ পারভেজ (হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও সনদে অসঙ্গতি)।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) এই আসনে মোট চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল বারী।
মনোনয়ন বাতিল হয়েছে- জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক (দলীয় মনোনয়ন, হলফনামা ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা না থাকায়)।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এই আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে, এ বিষয়ে বিকেলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মÐল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনজুর রহমান।
স্থগিত- আলতাফ হোসেন।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) এই আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস সালাম।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার জানান, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি, বিল খেলাপি বা ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সব প্রার্থী ও ভোটারদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
