মোঃ ফায়সাল হোসেন
প্রকাশ্য স্থানে ধূমপানের জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সুপারিশে এই আইন সংশোধন করা হয়।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানসহ যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন বাজারে আসা সব ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদÐ এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি বিক্রয়কেন্দ্রে সিগারেটের প্যাকেট প্রদর্শন এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে জারি করা ‘বিড়ি ম্যানুফ্যাকচার (প্রহিবিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫’ বাতিল করা হয়েছে। তামাকের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও গণ্য করা হবে।
সংশোধিত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
