স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগে প্রথম বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী সার্কিট হাউজে আয়োজিত এ সভা শেষে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত ব্রিফিং করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ।
তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবারের নির্বাচনকে স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভাগীয় পর্যায়ে এই সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার (রাজশাহী), ডিআইজি (রাজশাহী রেঞ্জ), পুলিশ কমিশনার (রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ), সেক্টর কমান্ডার (বিজিবি, রাজশাহী), পরিচালক (আনসার ও ভিডিপি, রাজশাহী), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (রাজশাহী অঞ্চল), অধিনায়ক (র্যাব-১২/৫, সিরাজগঞ্জ/রাজশাহী) এবং যৌথবাহিনীর পক্ষে সেনাবাহিনীর রাজশাহী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার। এছাড়া বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আনসারের জেলা কমান্ড্যান্টসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে: আচরণবিধি বাস্তবায়ন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও দখলকৃত ফুটপাতের স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অপরাধ দমন: সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সমন্বিত তৎপরতা: জেলা কোর কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভার মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হবে।
মোবাইল কোর্ট: আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধ দমনে প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রচার ও অংশগ্রহণ: নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
গণভোট ও পোস্টাল ভোট: গণভোট এবং পোস্টাল ভোট বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি টিভিসি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করা হবে।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, “এবারের নির্বাচন নানা কারণে ব্যতিক্রমী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন গণভোট না হওয়ায় অনেক নাগরিকের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, প্রবাসীরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পোস্টাল ভোট বিডি ওয়েবসাইট অনুযায়ী ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যা প্রতিদিন বাড়ছে। একই সুযোগ পাবেন সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত সেইসব ভোটার, যারা ভোটের দিনে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
সবশেষে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে-এই প্রত্যাশা আমাদের আছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী বিভাগে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”
তিনি এবারের নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
