- নদী বিপর্যয়ের কারণ: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, নদী বিপর্যয়ের তিনটি বড় কারণ রয়েছে—এর একটি হলো ভারত এবং বাকি দুটি হলো দেশের অভ্যন্তরে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নদী ধ্বংস ও ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর দখলদারি।

জাতীয় ঐক্যের অভাব: তিনি বলেন, দেশের ভেতরে নদী দখল ও দূষণে জাতীয় ঐক্য থাকলেও উদ্ধারে কোনো ঐক্য নেই।
- সরকারের উদ্যোগ: এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- আন্তর্জাতিক নির্ভরতা: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনায় সব সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘাটতি দেখা যায়। সরকারগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, নদী নিয়ে যে ডেল্টা প্ল্যান হচ্ছে, সেটিও নেদারল্যান্ডসের একটি গোষ্ঠী করে দিচ্ছে।
- ফরাক্কা বাঁধ: তিনি আরও বলেন, ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ফরাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করেছেন এবং বর্তমানে ভারতে বাঁধ ভাঙার দাবিও উঠছে। তাই ভারতের নাগরিক সমাজের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তৈরি করা জরুরি।
- নদী সংস্কার কমিটি ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন: বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নদী সংস্কার কমিটি গঠন করতে পারত এবং জাতিসংঘের ১৯৯৬ সালের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করার মতো সহজ কাজও করতে পারত।
- জাতীয় নদী দিবস ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি: আলোচনার সভার সভাপতি সুমন শামস বাংলাদেশের নদী সুরক্ষায় ২৩ মে দিনটিকে ‘জাতীয় নদী দিবস’ ঘোষণা করা এবং নদী সম্পদ মন্ত্রণালয় গঠন করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নদীর কাজ বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে বিভক্ত, তাই কার্যকর সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।
