পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আজ রাতেই দেশ ত্যাগ করবেন নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ইফতেখার আলম বিশাল
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ১২ জানুয়ারি, রোববার বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যাহা (স্মারক নং :২৭.২৯.০০০০.০৮২.৯৯.০০১.২৫-০৬)।
পদত্যাগপত্রটি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দপ্তরে (পিএস১৫৩) সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে জমা হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে জাকিউল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত আছি। ব্যক্তিগত কারণে নেসকো’র সার্ভিস রুলস ২০২৩ এর ১০.২ ধারা অনুসারে উক্ত পদ হতে পদত্যাগ করছি।
প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলামের পদত্যাগের পেছনে নেসকোতে কিছু বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াও ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে বিল উত্তোলন, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী জাকিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ (প্রধাণ কার্যালয় বিদ্যুৎ ভবন রাজশাহী) মিলে ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগগুলোতে কোনো বিজ্ঞপ্তি, লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।
তবে গুঞ্জন উঠেছে প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম পদত্যাগের পূর্বেই প্লেনের টিকেট নিশ্চিৎ করেছেন। ১৩ জানুয়ারি রাত ৯টা অথবা ৩টার দিকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা। তবে তিনি কোন দেশে উড়ে যাবেন সে নিশ্চিৎ হওয়া যায়নি।
ব্যাপারে নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমি ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পরিচালকম-লীর সদস্য তবে কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে বা কারো তদবিরে চাকরিতে আসেনি। এছাড়া আুমি ধর্মপরায়ন মানুষ, আমার অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নাই।
পদত্যাগের ব্যাপারে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলামের ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
