তথ্যবিবরণী
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা বলেছেন, নতুন পথের যাত্রা পথিক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে আজকে যে পুলিশ সদস্যরা যুক্ত হতে যাচ্ছেন আপনারা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে জনবান্ধব পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তাহলে আপনাদের এ প্রশিক্ষণ সফল হবে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীসারদাস্থবাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ১৬৭তম টিআরসি ব্যাচের ৩৩৪ জনের মনোজ্ঞ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশেপ্রধান অতিথি বলেন, গত ২৪ জুন ২০২৪ হতে শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণেরশেষ দিনআজ। এখন থেকে আপনারা প্রশিক্ষিত একঝাঁক মেধাবী ও চৌকস পুলিশ সদস্য। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ও নাগরিকের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে যাচ্ছেন। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব বহুমাত্রায় বেড়ে গেছে। জটিল হয়েছে কর্মপরিবেশ তার সাথে বেড়েছে দায়বদ্ধতা। এর মধ্যেই জনগণের নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা টেকসই করা বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার।
মাসুদুর রহমান ভূঞা বলেন, মাঠে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি দক্ষ পুলিশ সদস্য তৈরি করতে আমাদের প্রশিক্ষণে সংযোজিত হয়েছে নতুনত্ব ও আধুনিকতা। আইনের সঠিক প্রয়োগ, মানবাধিকার রক্ষা, পুলিশের ভূমিকায় নারী ও শিশুদের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষের প্রতি আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নৈতিক, মানবিক এবং মূল্যবোধ সম্পন্ন জনমুখী দেশপ্রেমিক নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের প্রয়াস ছিল সর্বোচ্চ।
প্রধান অতিথি বলেন, নবীন পুলিশ সদস্যগণ তাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, কর্মস্পৃহা এবং সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা অর্জন করে দেশ মাতৃকাকে সমৃদ্ধ করবে। একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণে উন্নত স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করতে পারলে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে আস্থা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের বিশ^াস ফিরিয়ে আনতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ প্রতি মুহূর্তে নিরলসভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস মোকাবিলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এছাড়াও বৈদেশিক শান্তিরক্ষা মিশনে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম রয়েছে। দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে অগণিত পুলিশ সদস্য।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, টিআরসির অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী টিআরসিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
