আলো ডেস্ক
মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি গণতন্ত্র। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মূল্যবোধ এবং মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতি আমাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে।”
রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং জনগণের মধ্যেও রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং বাণিজ্যিক বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমুখী করেছে। এই মূল্যবোধগুলো আমাদেরকে একত্রিত করেছে এবং আমরা একে অপরের থেকে শিখতে এবং সহযোগিতা করতে পেরেছি।”
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এই সম্পর্কের ভিত্তি গণতন্ত্রের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতি। পিটার হাস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশকে তার গণতান্ত্রিক যাত্রায় সমর্থন দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”
রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, নির্বাচনে সবার মতামত দেয়ার সুযোগ উচিত। যাতে গণতন্ত্র আরও সমুন্নত হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি এই গণতন্ত্র। যার জন্যে উভয় দেশেই মানুষ প্রাণ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পিটার হাস বলেন, সমালোচনাকে গ্রহণ করতে হবে যেন বর্তমানের ভুল শুধরে নিয়ে আগামীকে সাজানো যায়। সমালোচকরা বিদ্যমান অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেন, আমাদের দুর্বলতা দেখিয়ে দেন। আর পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেন। কেউ ভিন্নমত পোষণ করা মানেই রাষ্ট্রের প্রতি তার আনুগত্য নেই তা কিন্তু নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাসুদ বলেন, সময়ের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অব্যাহত রেখেছে। দুই দেশের মানুষের কল্যাণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ একসাথে কাজ করা দরকার।
আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ এই আয়োজনে যোগ দেন বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
