বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় জুটি তাহসান খান ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বছর দেড়েক আগে। বিচ্ছেদ যাতনা ভুলে কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে নিয়ে নতুন সংসার পেতেছেন মিথিলা। মিথিলার জীবন থেকে তাহসান সরে গেলেও স্মৃতি থেকে কি মুছে ফেলতে পারছেন?
সৃজিত-মিথিলার জীবনে ঘুরেফিরেই আসছে তাহসানের নাম। এ এক অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা। সৃজিত-মিথিলা কিছুতেই এড়াতে পারছেন না তাহসান প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিথিলা বলেন, ২০১৬-এর পরে আমরা আর কাজ করিনি। ২০১৭ সালে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এত বছর বাদে কাজ করলাম, লোকে আবার অনেক কথা বলতে শুরু করল।
তিনি বলেন, কী আর? টাকার জন্য মিথিলা-তাহসান একসাথে কাজ করল, অথচ বাচ্চার জন্য একসাথে থাকতে পারল না! লোকে তো জানেই না আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা। আমরা খুব ভাল আছি। আমাদের যখন বিচ্ছেদ হয় আয়রার এক বছর বয়স। ওকে নিয়ে সব জায়গায় ঘুরেছি। বাড়ির সাহায্য পেয়েছি। তাহসানের কাছে বাচ্চাকে রেখে বাইরে গিয়েছি। কর্মসূত্রে যখন বাইরে যাচ্ছি, তখনও আমি আয়রাকে সাথে নিয়ে গেলে কাজের জায়গা থেকে ওরা আপত্তি করেনি। আফ্রিকায় একটা কথা আছে, ‘একটা বাচ্চাকে বড় করতে পুরো গ্রামের প্রয়োজন’। এটাই সত্যি। আমি বলতে চাইছি বাচ্চা মানুষ করার ক্ষেত্রে দাদু-ঠাকুমা, শাশুড়ি, বন্ধু সকলকে দরকার। আমার ঢাকায় চলে যাওয়ার এটাই মূল কারণ ছিল, মেয়েকে পরিবার দেওয়া। দর্শক ভাবছে ২০১৬-এর পরে ২০২৪-এ মিথিলা আর তাহসানের দেখা হল। এটা তো নয়, আমাদের তো প্রতিদিন কথা হয়। ব্যাপারটা ও রকম নয় যে বহু বছর পরে দু’জনের দেখা, পিছনে গান বাজছে।
বিচ্ছেদের পরে সম্পর্ক রাখা স্বাভাবিক মিথিলা বলেন, সব সম্পর্কে বন্ধুত্ব না-ও থাকতে পারে। কিন্তু সন্তান থাকলে তার স্বার্থ আগে দেখতে হবে। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য আমার কাছে সবচেয়ে আগে। এটাই উচিত। আমি আয়রাকে দেখতে পেলাম না। আমি আর তাহসান লড়াই করলাম, এই ইগোর যুদ্ধে তো বাচ্চার ক্ষতি হবে।
আমি আর তাহসান ১৪ বছর একসাথে থেকেছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের আলাপ। দু’জন দু’জনকে ভাল করে জানি। আয়রা আমাদের দু’জনের কাছে সবচেয়ে আগে।
তাহসানের সাথে সম্পর্কের কথা সৃজিত জানতো কিনা এ বিষয়ে মিথিলা বলেন, ও সবটাই জানত। বাংলাদেশে গিয়েছে, আমার পরিবারকে দেখেছে। তাহসানের সাথে আমার সম্পর্ক দেখেছে। বিয়ের মতো সম্পর্ক হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণ থাকে, সৃজিত আমার সব কিছু জেনেই আমাকে গ্রহণ করেছে। আয়রার সাথে সৃজিতের চট করে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। ও সৃজিতকে ‘আব্বু’ ডাকে। আর তাহসানকে ‘বাবা’। এই দুইয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আমি।
