বাগমারায় হাতিয়ার বিলে জোরপূর্বক লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে বিল দখলে চেষ্টা ও মাছ নিধনের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নে হাতিয়ারের বিলে জোরপূর্বক লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে বিল দখলের চেষ্টা ও মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। সমবার (৩ জুন -২০২৪ ইং ) বেলা ১১ টার সময় নরদাশ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ও নরদাশ ইউনিয়নের যুবদলের আহ্বায়ক আঃ রাজ্জাকের নেতৃত্বে শাকিম, আঃ রশিদ, মজিদ, মোবারক হোসেন, মমতাজ উদ্দীন।
মাসুদ রানা, ফজলু রহমান, আজাদ, জনার, আজাহার নুজরুল ইসলাম, বাবুল হোসেন সহ ২০/২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দেশীয় হাসুয়া লোহার রড বাঁশের লাঠি ও চাইনিজ কুড়াল হাতে নিয়ে এসে জোরপূর্বক হাতিয়ারের বিল দখলের চেষ্টা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করার নামে বিলের মাছ নিধন করেছেন।
ঘটনাটির খবর পেয়ে, হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুলাল উদ্দিনের বাড়ি থেকে অদ্ধশতাধিক বাঁশের লাঠি উদ্ধার করেছে। সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের হাতিয়ার বিলের চারপাশের গ্রামে সদস্য নিয়ে গঠিত হাতিয়ারের বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প।
এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ছয়টি গ্রাম, নরদাশ সুজন পালশা, চন্ডিপুর, কোয়ালিপাড়া, পারিলা, হাট মাধনাগর সহ ছয়টি গ্রামের মোট ৬০০ ছয়শত জন সদস্য নিয়ে হাতিয়ারের বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিলটি চাষ করে আসছিলেন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে। হাতিয়ারের বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত আমরা কৃষকে বিনা খরচে ধান চাষ করে দিয়ে আসছি, আর আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ চাষ করছি। বর্তমান লাল নিশানা টাঙানো জায়গাতে প্রায়ই ২০ লক্ষ টাকার মাছ রয়েছে।
এ বিষয়ে নরদাশ ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে কিছু লোকজন প্রায় ১৫ বছর ধরে বিলটি দখল করে রেখেছেন। তাই বিলটি উদ্ধারের জন্য বিলটিতে লাল নিশানা টাঙ্গানো হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ করে গত ০৩/০৬/২৪ ইং তারিখ বেলা ১১টার সময় নরদাশ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ও নরদাশ ইউনিয়নের যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হাতে দেশীয় তৈরি অস্ত্র নিয়ে লাল নিশান বিলে টাঙ্গিয়ে জোরপূর্বক বিলটি দখলের চেষ্টা ও মাছের পোনা অবমুক্ত নামে নিধন করেছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
