আলো ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কেন্দ্র দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের পূর্ব বয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- আজাদ উদ্দিন ও জাফর আলী। এদের একজন গুলিবিদ্ধ ও অপরজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী আবদুর রব বেপারীর (মোরগ) ভগ্নীপতি ও আহত জাফর তার ভাগিনা। আহতরা চরগাজীর বয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, ফরিদ তার বাহিনী নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করতে যান। টের পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুর রব বেপারীর লোকজন বাধা দেন।
এতে ফরিদের লোকজনের গুলিতে আজাদ ও ধারালো অস্ত্রে আঘাতে জাফর আহত হন। এ ঘটনার পর কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আবদুর রব ব্যাপারী জানান, কেন্দ্র দখলে নিতে ফরিদ হামলা চালিয়ে আমার ভগ্নীপতি ও ভাগিনাকে আহত করেছে। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমার তিনজন লোককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ফরিদ জলদস্যু। ২০১৮ সালে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে র্যাবের ওপর তার বাহিনী হামলা চালায়। তার বিরুদ্ধে রামগতিসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থলেই আছি। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বা কারা ঘটিয়েছে তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী ও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে চরগাজি ছাড়া কমলনগরের চরকাদিরা, চরলরেন্স, চরমার্টিন ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ ৮টা থেকে শুরু হয়। এরমধ্যে চরলরেন্সে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে শুধুমাত্র সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মেম্বারপ্রার্থীর বাড়িতে ঢুকে হামলা: এদিকে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেম্বারপ্রার্থী শামছুল হুদার (ফুটবল) বাড়িতে ঢুকে পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চরকাদিরা ইউনিয়নের আলি আহম্মদ হাফিজিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্র সংলগ্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম তার সদস্যদের নিয়ে প্রার্থী শামছুল হুদার বাড়িতে ধাওয়া করে। এ সময় লাথি দিয়ে চেয়ারসহ হনুফা বেগম নামের এক গর্ভবতী নারীকে ফেলে দেন। রান্নাঘরে থাকা গৃহবধূ বিলকিছ বেগমকে প্রতিবাদ করায় বিলকিছের শাশুড়ি বিবি আয়েশাকে লাঠিপেটা করেন তিনি। এছাড়াও বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুকে মারধর করেন।
আহত হনুফা বেগম বলেন, বাড়িতে চেয়ারে বসা ছিলাম। পুলিশ এসে চেয়ারে লাথি মেরে আমাকে মাটিতে ফেলে দেন। আমি কোমরে ব্যথা পেয়েছি। বিলকিছ বেগম নামের আরেক নারী বলেন, ভাত রান্না করছিলাম আমি। এ সময় পুলিশ এসে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যেতে বলে।
কেন যাবো বলতেই হাতের লাঠি দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী শামছুল হুদা বলেন, এসআই সিরাজ আমার বাড়িরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। তার মারধরে গর্ভবতী নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তালা প্রতীকের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন মাঝির পক্ষে পুলিশ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে জয়নাল আবেদীন মাঝি বলেন, তিন নারী জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসন তাদের আটক করে। পরে সতর্ক করে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ কাউকে মারধরও করেনি। কারো বাড়িতেও ঢোকেনি। কমলনগর থানার এসআই ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের কাজ চলছে।
মেম্বার প্রার্থীদের কিছু লোক কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে। আমি দিইনি। বাড়িতে ঢুকে হামলা ও মারধরের ঘটনা সত্য নয়। সুবিধা নিতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
