ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
বয়সে তরুন এক যুবক নাম ‘রাসেল’। তিনি ক্ষোভে, দুঃখে তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তার এই স্ট্যাটাস অন্যের জন্য অপমানজনক, মানহানিকর হওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ সংঘটিত হয়। স্বাভাবিক ভাবেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
রাসেল খুব ভয়ে ছিলেন, তার ক্যারিয়ার তখন হয়ত শেষ। এই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রায় হয়। মামলার রায়ে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মোঃ জিয়াউর রহমান শাস্তি না দিয়ে রাসেলকে প্রবেসন প্রদান করেন।
রাসেলও প্রবেসনের শর্ত অনুযায়ী অনলাইনে সাইবার সচেতনতা বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যান। রাসেল আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আদালত তার আদেশে বলেছেন, আমার প্রবেসন শেষ হলে চাকুরী পেতে এই মামলা কোন বাধা হবে না।
বর্তমানে সাইবার সচেতনতা সৃষ্ঠিতে রাসেল অনলাইনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাসেল এর মত এক ডজন তরুণ যারা এক সময় সাইবার অপরাধে জড়িয়েছিলেন, তারা আজ প্রবেসনে গিয়ে সাইবার সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন।
শাস্তি হলে হয়ত তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ত। তারা উপলদ্ধি করেন যে, ‘সাইবার’ অপরাধ নয়’ বরং প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্ঠিতে নিজ অবস্হান হতে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করে। এক সময়ের সাইবার অপরাধীরা এখন সাইবার ডিফেন্ডার হয়ে অবদান রাখছেন আমাদের দেশে।
গত ৪ বৎসরে মামলা নিষ্পত্তিতে বড় অবদান রেখে যাচ্ছেন এই আদালত। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মানুষের জন্য ২০২১ সালের ৪ ঠা এপ্রিল রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত হয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই আদালতে পুরাতন মামলার পাশাপাশি নতুন মামলা বাড়তে থাকে।
