আবু হেনা মোস্তফা জামান
রাজশাহী মহানগরীতে নামীদামী দেশি বিদেশী ব্যান্ডের নকল প্রসাধণী, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এসময় আসামীদের হেফাজত থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা মূল্যের বিভিন্ন দেশী-বিদেশী কোম্পানীর মোড়ক যুক্ত নকল প্রসাধণী, নকল প্রসাধণী তৈরীর বিভিন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়।
আটককৃতরা হলো: রাজশাহী জেলার দূর্গাপুর থানার কালুপাড়া দক্ষিনপাড়ার মৃত গাজীউর রহমানের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪৮) এবং তার ভগ্নিপতি রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার দিঘীর পারিলা গ্রামের মৃত আঃ সফি তালুকদারের ছেলে মোঃ মেজবাহ উদ্দিন (৪০)।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় আরএমপি সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযান পরিচালনা করেন রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) নূরে আলম এর নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার সুকুমার মোহন্ত ও পবা থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুম মনির ও পবা থানার একটি বিশেষ দল।
পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পবা থানার দিঘীর পারিলা গ্রামের দুইজন নকল প্রসাধণী প্রস্তুতকারী তাদের বাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে দেশী-বিদেশী কোম্পানীর মোড়ক যুক্ত ভেজাল ও নকল প্রসাধণী তৈরী করে রাজশাহী মহানগর এবং মহানগরীর বাহিরে বিভিন্ন বিউটি পার্লার, জেন্টস পার্লার, সেলুন ও কসমেটিক্স এর দোকানে সরবরাহ করে আসছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায়, তারা কোন বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ানদের সু-নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেখে মানহীন ভেজাল ও নকল প্রসাধণী তৈরী করে এবং সহযোগী আসামীদের দ্বারা বাজারজাত ও বিক্রয় করে থাকে। এই সকল নকল প্রসাধণী ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন প্রকার চর্ম রোগ, এমনকি স্কিন ক্যান্সারও হতে পারে বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
