ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি রুবেল দে’র মৃত্যুর ঘটনায় বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেল সুপারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড.বেগম জেবুন্নেছার আদালতে নিহত রুবেলের স্ত্রী পূরবী পালিত বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
বাদীর আইনজীবী অজয় ধর বলেন, কারা হেফাজতে রুবেলে মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর ১৫(২) এ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মামলার আবেদন জমা নিয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ দিবেন বলেছেন।
তিনি আরও জানান, এতে আসামীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুসহ উপযুক্ত শাস্তি দানের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে বাদী আর্জি জানিয়েছেন।
মামলায় বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আছহাব উদ্দিন, একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম আবু মুসা, এএসআই মাঈন উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল কামাল, আবদুল্লাহ, এসআই রিযাউল জব্বার, ডিউটি অফিসার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেলার মোহাম্মদ এমরান হোসেন মিয়া, ডেপুটি জেলার নওশাদ মিয়া, মো.আখেরুল ইসলাম, সুমাইয়া খাতুন, ইব্রাহিম ও কারা ওয়ার্ড (পদ্মা-১৫) মাষ্টারকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ জৈষ্ট্যপুরার নিজ বাড়ি থেকে থানার ওসির নির্দেশে এসআই এসএম আবু মুসা বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে রুবেলকে(৩৮)। এরপর অভিযান পরিচালনা করে তাকে রাত ৮টার দিকে মদসহ অবস্থান করার তথ্যে গ্রেপ্তার করার ভুয়া মামলা সাজায় এবং ওইদিন রাত ৯টার দিকে পুলিশ কল করে রুবেলকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে ৫শ’ লিটার চোলাই মদ দিয়ে মিথ্যা মাদক মামলা সাজিয়ে চালান দেয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। রুবেলের পরিবার এত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ২শ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের মিথ্যা এজাহার প্রস্তুত করে থানায় বসে ভুয়া জব্দ তালিকা তৈরি করেন এবং একজন আসামি নিজে বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় রুবেলের নামে মিথ্যা মামলা রুজু করেন। পরদিন বোয়ালখালী থানার উপপরিদর্শক রিযাউল জব্বার রুবেলের শারীরিক আঘাতের কথা গোপন রেখেই তাকে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত রুবেলকে হাজতে পাঠানোর আদেশ দিলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রুবেলের পরিবার সাক্ষাৎ করার জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে গেলে দেখতে পান, কারারক্ষীরা মুমূর্ষু অবস্থায় রুবেলকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে এসেছেন। এসময় তারা দেখতে পান রুবেলের কপালে, ডান চোখের ভ্রু এর উপর রক্তাক্ত কাটা জখম, মুখ দিয়ে অনবরত লালা ঝরছে, সারা মুখমন্ডলে নীলা ফুলা জখম হয়ে আছে এবং প্রচণ্ড আহত ও নিস্তেজ অবস্থায় মাথা হেলিয়ে পড়ে আছে। এমনকি কথা বলার কোন শক্তি বা অবস্থা তার মধ্যে ছিল না। এমন অবস্থার কারণ জানতে চাইলে কারারক্ষীরা কোনো জবাব দেননি।
এ ঘটনার কথা রুবেলের আইনজীবীকে জানানো হলে মামলার ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ১০ থেকে ১৫ নম্বর আসামিরা ভিকটিমকে তাদের হেফাজতে অকথ্য নির্যাতন করেন। যার প্রেক্ষিতে ৪ জানুয়ারি রুবেলের আইনজীবী তার বিরূপ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে জেল সুপারকে আদেশ প্রদানের জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নং আদালতে একটি দরখাস্ত দেন।
আদালত আবেদন মঞ্জুর করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করার জন্য জেল সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরদিন সকাল ৮টায় রুবেলের স্ত্রী পূরবী পালিত ইউপি সদস্য প্রদীপ সূত্রধরের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্বামী মারা গেছেন এবং লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এরপর রুবেলের পরিবার মর্গে গিয়ে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
