ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দেশের টালমাটাল পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে দ্বিধা আর দ্বন্দে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগের-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সিনিয়র নেতারা। তাদের ভাষ্য, ‘মাথায় কাঁটার মুকুট পরার ইচ্ছা নেই’। তবে তারা বরং পাঞ্জাবের দিকে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন।
শনিবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও’র অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জিও জানিয়েছে, লাহোরে পিএমএল-এন’র জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আজম নাজির তারার, আয়াজ সাদিক, আহসান ইকবাল, রানা তানভীর, সুলেমান শেহবাজ ও মালিক আহমেদ খান, শেহবাজ শরীফ, মরিয়ম নওয়াজ, ইসহাক দার, মরিয়ম আওরঙ্গজেব ও সাদ রফিক অংশ নেন। জ্যেষ্ঠ নেতারা সেখানে ‘কেন্দ্রে সরকার গঠনের চেষ্টা না করে পাঞ্জাবের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত’ বলে প্রস্তাব দেন। পাঞ্জাবে নির্দলদের নিয়ে সহজেই সরকার গঠন করা যায় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
পার্টি সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের সভাপতিত্বে পিএমএল-এন’র বৈঠকে দলের নেতারা বলেছেন, আমাদের ফেডারেল সরকার গঠন করা উচিত নয়। তবে নওয়াজ বলেছেন, ফেডারেল সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের নীতিহীন দাবিও মেনে নেওয়া উচিত নয়। নির্দলদের নিয়ে সহজেই সরকার গঠন করা যায় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ইসহাক দার প্রাদেশিক সরকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বতন্ত্রদের সহায়তায়’ পাঞ্জাবে পিএমএল-এন’র আসন সংখ্যা বেড়ে ১৫৪ হয়েছে। ফলে সেখানে সহজেই প্রাদেশিক সরকার গঠন করা যাবে।
বৈঠকে বেশ কয়েকজন নেতা কেন্দ্র সরকার গঠনের পক্ষেও কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, ফেডারেল সরকার গঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া পাকিস্তানরে রক্ষা করা।
এ বৈঠকের পরে শুক্রবার রাতে পিএমএল-এন নেতা আহসান ইকবাল জানান, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে তার দল কেন্দ্র সরকার গঠন করবে। নওয়াজ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, দল আমাদের নীতির সঙ্গে আপস করে ফেডারেল সরকার গঠন করবে না।
ইকবাল আরও বলেন, আমরা আমাদের নীতিতে অটল থাকব এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করব। পাকিস্তান মুসলিম লীগ ইতোমধ্যে পাঞ্জাবে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যা অর্জন করেছে। এবং দল কেন্দ্রে সরকার গঠন করবে।
এদিকে জিও নিউজের অনলাইন প্রতিবেদনে পিএমএল-এন’র সিনিয়র নেতা খাজা সাদ রফিকের একটি বক্তব্য তুলে ধরেছে। জিও জানায়, মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে সাদ রফিক একটি পোস্ট করেন। যেটিতে তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানে ফেডারেল সরকার গঠন করা সংসদের সব দলের যৌথ দায়িত্ব, পিএমএল-এন’র একার নয়।
এছাড়া গত ৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীদের আহ্বান জানিয়ে রফিক লিখেছেন- আপনাদের উদ্যোগ নেয়া উচিত। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে একটি যৌথ কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা উচিত। নির্বাচনে যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই তাই পিএমএল-এন’র মাথায় কাঁটার মুকুট সাজানোর কোনো ইচ্ছা নেই।
পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম শহর শেখুপুরার পিএমএল-এন নেতা জাভেদ লতিফও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়াদের সরকার গঠনের পক্ষে। তিনি আশা করেন, পিএমএল-এন সিদ্ধান্ত নেবে- যে দলটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়েছে তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি হলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে। যেদিন পিএমএল-এন এ সিদ্ধান্ত নেবে, আমি প্রকাশ করব ৮ ফেব্রুয়ারি কার জন্য কারচুপি করা হয়েছিল এবং এর পেছনে মাস্টারমাইন্ড কারা ছিল। পিএমএল-এনকে পাঞ্জাবের দিকে নজর দিতে হবে।
পাকিস্তানের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায়- তাহলে সেই দল বা জোটকে অবশ্যই ১৩৩টি আসনে জয়ী হতে হবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে পিটিআই ৯২ আসনে জয়ী হয়। পিএমএল-এন পেয়েছে ৭৯ ও পিপিপি পেয়েছে ৫৪ আসন। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্ররা পেয়েছে বাকি আসন।
