ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইয়ুথ কনফারেন্স ফর টোব্যাকো ফ্রি বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে।
মো. মহিববুর রহমান বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। উন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে, আজকের তরুণদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। সেক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণে তামাক ও মাদক বিরোধী প্রচারণাকে আরো জোরদার করতে হবে এবং নিজেদেরকে দক্ষ এবং যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, তামাক হচ্ছে ক্ষতিকর একটি ফসল। এর চাষ এবং ব্যবহার আমাদের জন্য ক্ষতিকর। তামাকসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকজাত দ্রব্য ব্যবহার করার ফলে আমাদের অসংখ্য মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল আজিজ বলেন, তরুণরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তামাক পণ্যে আকৃষ্ট হচ্ছে। ধূমপান মাদকাসক্তির প্রাথমিক ধাপ। তরুণদের রক্ষায় দ্রুত আইন করে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা জরুরী।
তামাকের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আলোচনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক ইফতেখার মুহসিন তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি তুলে ধরে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৬৭ শতাংশ মৃত্যু হয় অসংক্রামক রোগে। তামাকজাত দ্রব্য এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ। তাই জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও শিশু-কিশোরদের রক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
এ ছাড়া সভা শেষে জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অ্যান্টি টোব্যাকো ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রনে তরুণ সমাজের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে তারা অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
