আলো ডেস্ক এক্সক্লুসিভ: চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র্যাম্পে কোনো ফাটল দেখতে পায়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) গঠিত বিশেষজ্ঞ তদন্ত টিম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তারা জানান, ফাটলের মতো দূর থেকে যেটি দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে ফলস কাস্টিং।
গতকাল মঙ্গলবার র্যাম্পটি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দূর থেকে র্যাম্পে ফাটলের মতো যেটি দেখা যাচ্ছে, সেটি আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। সেখানে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। এটি ফলস কাস্টিং।
তিনি আরও বলেন, আগামীকাল (আজ বুধবার) সিটি করপোরেশনে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। জানা গেছে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা গেছে জানিয়ে গত ২৫ অক্টোবর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে বাস টার্মিনালমুখী র্যাম্পে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন মত দেন।
গত ২৮ অক্টোবর চসিকের এক সভায় ফ্লাইওভারের ‘ফাটল’ নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা নিরপেক্ষ তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ টিম গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১১ সালে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহত হন। পুনরায় নির্মাণ শেষে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর ফ্লাইওভারে যান চলাচল শুরু হয়। এরপর বাস টার্মিনালমুখী একটি র্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষে ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর ওই অংশে যান চলাচল শুরু হয়।
