আলো ডেস্ক: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কালোবাজারে পাচারের সময় ট্রাকবোঝাই ১০ টাকা কেজির প্রায় ৮০ মণ চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক শাহ আলমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহ আলম সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পারুলকান্দি গ্রামের বিশা প্রামানিকের ছেলে।
এর আগে, গত বুধবার রাতে চাল পাচারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ডিলার ও ট্রাকচালকসহ তিনজনের নামে থানায় মামলা করে। মামলা সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য সরকারিভাবে এ উপজেলায় ১০ ইউনিয়নে ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারেজ উদ্দীন আকন্দের ছোট ভাই ঈশ্বরঘাট গ্রামের আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু ডিলার হিসাবে নিয়োগ পান। তিনি বিধি অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে কান্তনগর বাজার এলাকায় তার ব্যক্তিগত গুদামে মজুত রেখে কার্ডধারীদের মধ্যে বিক্রি করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর চাল উত্তোলন করে তার ব্যক্তিগত গুদামে মজুত রেখে গত বুধবার কার্ডধারীদের মধ্যে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু সরকারি চাল কার্ডধারীদের মধ্যে বিক্রি না করে এলাঙ্গী বাজারের মিঠু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।
গত বুধবার ভোর ৫টার দিকে মিঠু মিয়া ডিলারের গুদাম থেকে ওই চালগুলো ট্রাক বোঝাই করে পাচারের উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ১৯০ কেজি সরকারি চাল বোঝাই ট্রাক জব্দ করে। এ সময় ট্রাকচালক শাহ আলমকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ডিলারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তার ট্রাকচালককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নুর মোহাম্মাদ বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর কাছে চাল বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
