আলো ডেস্ক: ২০ বছর বয়সী মেয়েকে তার বাবা ধর্ষণ করেছেন- এমন একটি অভিযোগ নিয়ে থানায় যান মা। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নারীর স্বামী, অর্থাৎ মেয়ের বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মঞ্জিল মিয়া।
তিনি কিশোরগঞ্জ শহরে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। থানায় দেওয়া অভিযোগ থেকে গেছে, মঞ্জিল মিয়ার ১৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে ৯ মাস আগে কিশোরগঞ্জে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ভুক্তভোগী মেয়ের। বিয়ের পর প্রায় মঞ্জিল মিয়া মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করে মেয়েকে কিশোরগঞ্জে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
২৭ জুন সন্তান প্রসবের জন্য মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। এই সুযোগে ওইদিন রাতে বাসায় কেউ না থাকার মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তার বাবা মঞ্জিল মিয়া। এরপর ১৯ জুলাই আবারও মেয়েকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ধর্ষণ করতে না পেরে মেয়েকে মারধর করেন।
ভুক্তভোগী মেয়েটি জানান, এর আগেও একাধিকবার আমাকে ধর্ষণ করেন বাবা। আমি আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া খারাপ কাজের বিচার চাই। মেয়ের মা জানান, আমার যেদিন হাসপাতালে বাচ্চা হয়, সেদিন রাতে আমার স্বামী মেয়েকে ধর্ষণ করেন। সবশেষ ১৯ জুলাই আমাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তা করতে না পেরে মেয়েকে মারপিট করেন তিনি।
পরে মেয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়। এরপর আমি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে আমার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেছেন বলে মঞ্জিল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন তার স্ত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জিল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
