আলো ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাত হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নিহতের সহপাঠী শামসুদ্দোহা সাদীকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানাধীন দুর্গম চর এলাকা থেকে পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার সিআইডির এডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল এর কার্যলয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এসব জানান। তিনি বলেন, নিহত রাহাত ও আসামি সাদী একই কলেজের একই শ্রেণির ছাত্র ছিল। আসামি সাদী কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এবং বয়সে রাহাতের চেয়ে বড় হওয়ায় সে রাহাতের কাছে জ্যেষ্ঠতা দাবি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিবাদ শুরু হয়। চলমান বিবাদের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সংঘঠিত করে সাদী। ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের প্রবেশ গেইটের মাত্র ১০ গজ দূরে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। রাহাত ও তার কাজিন রাফি কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে মোটরসাইকেলযোগে বাসা থেকে রওনা দিলে একটি ফোন কল পেয়ে কলেজে যায় এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। এরপর দুপুর ১২টা ২০মিনিটের দিকে সেখান থেকে বের হয়ে কলেজের দশ গজের মাথায় স্পিড ব্রেকারের সামনে পৌঁছালে গতি কিছুটা কমে যায় মোটরসাইকেলের। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান করে শামসুদ্দোহা সাদী ও তার সহযোগী তানভীর। এ সময় সাদী মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সে পালিয়ে যায়। ভিক্টিম রাহাত এর সাথে থাকা রাফিকেও আঘাত করে সাদী। এ সময় আশপাশে থাকা ছাত্ররা এসে তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহাতকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাদী হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।
