আলো ডেস্কঃ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি ও একই দিনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। বুধবার পাল্টাপাল্টি এসব কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে যায় ঢাকা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এদিন সকাল সোয়া ১১টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আব্দুল্লাহপুর থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি পদযাত্রা শুরু করে।
রামপুরা ব্রিজে পদযাত্রায় যুক্ত হয় মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। পদযাত্রাটি বিমানবন্দর, কুড়িল, বিশ্বরোড হয়ে নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা ব্রিজ, আবুল হোটেল, খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া এবং সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ এবং র্যালি রাজধানীর তেঁজগাও সাতরাস্তা মোড় থেকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সড়কে সৃষ্ট হয় তীব্র যানজট। সরেজমিনে দেখা গেছে, তেঁজগাও-বিমানবন্দর সড়কজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ছড়ায় যানজট। যাত্রাবাড়ী থেকে রামপুরা-উত্তরা সড়কেও একই অবস্থা।
সাতরাস্তা এলাকায় এক বাসচালক বলেন, রাস্তায় কর্মসূচি কেন করে আমি বুঝি না। কর্মসূচির জন্য মাঠ আছে। মানুষ আমাদের গালাগালি করে। কিন্তু, যানজট তো মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির জন্যই। এখানে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়েছে। আরেক বাসচালক বলেন, যাত্রী ভরপুর বাসে। অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় বসে আছি এই গরমের মধ্যে। যাত্রীরাও কষ্ট পাঁচ্ছে, আমাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একজন যাত্রী যাবেন গাজীপুর।
সাত রাস্তার মোড় থেকে বাসে উঠেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২ ঘণ্টাতেও মহাখালী পার হতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এখানেই নাকি সরকারি দলের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ হচ্ছে। এ কেমন শান্তি, এ কেমন উন্নয়ন সমাবেশ মানুষকে কষ্ট দিয়ে। রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জয়নাল আবেদীনবলেন, শাহবাগ হয়ে প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তানে গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। প্রেস ক্লাবের রাস্তাটিও কিছুক্ষণ ধরে বন্ধ রয়েছে।
মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে এক পাশ বন্ধ থাকায় যানবাহন আটকে আছে। বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য কিছু পয়েন্ট বন্ধ রয়েছে। আমরা স্পটে আছি। নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, পদযাত্রা ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার জন্য ট্রাফিক সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কর্মব্যস্ত দিনে কর্মসূচি না দিয়ে ছুটির দিনগুলোতে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করলে জনভোগান্তি কমবে।
