তথ্যবিবরণী
বাংলাদেশে দূর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে হনুমানের মূর্তির কাছে কোরআন শরিফ রেখে এসেছে ধর্মান্ধগোষ্ঠী। যারা এ কাজটি করেছে আর যারা প্ররোচনা দিয়েছে তারা ইসলামকে অবমাননা করেছে, হিন্দু ধর্মকে অবমাননা করেছে। বাংলাদেশে কোন সম্প্রদায়ের লোক অপরের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করার মানসিকতা পোষণ করেনা’
গতকাল সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংএ এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা বার বার করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, কারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি জামাতসহ ধর্মান্ধগোষ্ঠী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের তা পছন্দ নয়। সে কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা প্রকাশ্যে বৈঠক করেছে আর গোপনে ষড়যন্ত্র করেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বসে থাকবে না সুতরাং আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন অর্জন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও গত বছর আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ২০০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলার যা ভারতের চাইতেও বেশি। আর পাকিস্তানকে আমরা ২০১৫ সালেই ছাড়িয়ে গেছি। ২০২০ সালে পৃথিবীতে মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ গ্রোথ রেট হয়েছে। সে ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের স্থান সেখানে তৃতীয়। বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। গত জাতিসংঘ অধিবেশনে এসডিজি অর্জনে সক্ষমতার জন্য প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত হয়েছেন। এ অগ্রগতি যাদের পছন্দ হয় না তারা নানা সময় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
প্রেস বিফিং এ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কল্যাণ ট্রাষ্টের এমডি নিয়োগ করা হয়েছে। কল্যাণ ট্রাষ্টের সহায়তা কারা পাবে তা ট্রাষ্ট নির্ধারণ করবে। আর এ কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্যরা সবাই সাংবাদিক। এ ট্রাষ্টে যে দুইএকজন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন তারা শুধু করণিক সহয়তা দিয়ে থাকেন। ক্লীন ফিড বিষয়ক অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর পর ক্লিনফিড আইন কার্যকর করা হয়েছে। ক্লিনফিড সম্প্রচারের ফলে আমাদের পুরো গণমাধ্যম উপকৃত হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা গণমাধ্যমে বিনিয়োগ হবে। এ ছাড়া প্রেস বিফিং এ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ।
এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাজশাহী উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং রাজশাহী থেকে বিটিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য ষ্টুডিও নির্মাণ বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সেখানে একটি আম গাছের চারা রোপন করেন। এ সময় রাজশাহী ৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
