আলো ডেস্ক: ২০০৭ সালে পটুয়াখালীতে এক নারী খুনের মামলায় ভাড়াটে খুনির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার আসামির আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ রায় দেন। আদালতে আসামি মিজানুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে স্বামী জাহিদ হাসান জুয়েল কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। ৩০ জানুয়ারি সেখান থেকে ফেরার পথে রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাজপাড়া নামক স্থানে গাড়িটি জাহিদের পাতানো ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। ছিনতাইকারী সেজে ভাড়াটে খুনি মিজান, জাহিদ ও গাড়িচালক শাহিন গাড়ির ভেতর তানিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ১০ মাসের শিশুসন্তানসহ তানিয়াকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় আসামিরা।
ঘটনাস্থলে তারা কাশেম নামে একজনের ভুয়া পরিচয়পত্র ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন ৩১ জানুয়ারি তানিয়ার ভাই রায়হান গফুর বাদী হয়ে জাহিদ ও কাশেমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ জাহিদ, গাড়িচালক শাহিন এবং ভাড়াটে খুনি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০১২ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্ট তিনজনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন। এর মধ্যে আপিলের পর ২০১৭ সালে জাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আর মিজানুর রহমানের আপিল গতকাল মঙ্গলবার খারিজ হয়ে যায়। আজ বুধবার শাহিনের আপিলের ওপর শুনানি হবে।
