আলো ডেস্ক: সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি রুখতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করে বাহাত্তরের সংবিধানে প্রত্যাবর্তন করাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম’৭১। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সংগঠনের অন্যান্য দাবিগুলো হল- সব ধর্মের মানুষের নির্ভয়ে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে, স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পাঠ্য করতে হবে এবং এলাকাভিত্তিক ও দেশ জুড়ে সম্মিলিত সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী শম্পা বলেন, প্রতিবছর আমরা দেখছি পূজাম-পে হামলা করতে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই সেই চেনা শত্রুদের, বারবার ছোবল দেওয়ায় আমরা বিষে নীল হয়ে মরে যাব সেটা কিন্তু না। আমরা বারবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াবো। আমরা এদেশ ছাড়ব না। বাংলাদেশ আমাদের বাবাদের রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি। বাংলাদেশকে অসম্প্রদায়িক রাখবো এবং তার জন্য প্রয়োজন হলে রক্ত দেব। মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সংস্কৃতি রুখা যাবে না। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও বলবত রাখার মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার তথা বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতির অংশ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও রাজনীতির চর্চাকে অবাধ করা হয়েছে সমাজের সবস্তরে। তারা বলেন, গত বছরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী সন্ত্রাসও এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারাবাহিকতা। একইসঙ্গে আমরা দেখেছি সুপরিকল্পিতভাবে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংশ্লিষ্ট কোনো সিলেবাস প্রণয়ন তো হয়ইনি, বরং সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত হয়নি বরং সাম্প্রদায়িকতার রূপ আরও জটিল এবং গভীর হয়েছে। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজন্ম’৭১ এর সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময়, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুদ্দিন আব্বাস, যুগ্ম সম্পাদক বশীর আহমেদ প্রমুখ।
