পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর পুঠিয়ায় রাতের আঁধারে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুকুর খননকারি স্থানীয় একজন প্রভাবশালী। তিনি পুলিশ প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের সাথে চুক্তি করেছেন। চুক্তি মোতাবেক দিনে নয়, রাতে লাইট জ্বালিয়ে খনন করাচ্ছেন পুকুর। আর খননকৃত পুকুরের মাটি বহণকারী ইটভাটার ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ সড়ক গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে চলতি মাসের শুরু থেকে উপজেলার শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন এলাকায় ১৩ টি স্থানে তিন ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে পুকুর খনন চলছে। আর এক একটি পুকুর খনন হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ বিঘা জমি ঘিরে। সে মোতাবেক খননের প‚র্বেই পুকুরের সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে।
জিউপাড়া এলাকার চাষি সাইদুর রহমান বলেন, গাইনপাড়ায় গ্রামে একই স্থানে ৬টি পুকুর খনন হচ্ছে। আর খননকৃত মাটি স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের ট্রাক্টর দিয়ে বহণ করা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত মাটি বহণের কারনে গ্রামীণ সড়ক গুলো ভেঙ্গে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তবে রহস্যজনক কারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, জমির মালিকরা শিলমাড়িয়া এলাকার আমজাদ হোসেন নামের (এমপির ঘনিষ্ঠ) এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করছেন। তার সাথে প্রতি বিঘা জমিতে পুকুর খনন করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা চুক্তি করেন। আর তিনি এমপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সুবাদে বিশেষ সুবিধায় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন। এরপর রাতের আঁধারে লাইট জ্বালিয়ে ফসলি জমিতে চলে পুকুর খননের কাজ।
তবে অর্থের বিনিময় পুকুর খনন করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আমজাদ হোসেন বলেন, এক শ্রেনীর লোকজন আমার নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধা হাসিল করছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি যেখানে আমার নাম আসবে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে।
মনিরুল ইসলাম নামে একজন ট্রাক্টর চালক বলেন, পুকুরের খননকৃত মাটি তিনটি ইটভাটা কিনে নিয়েছে। আর আমরা প্রতি গাড়ি মাটির জন্য ভাটা থেকে ৪০০ টাকা মুজুরি পাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুসনা ইয়াসমিন বলেন, এক শ্রেণীর লোকজন প্রতিদিন এই এলাকায় শত শত একর ফসলি জমি পুকুর করছে। পুকুর খনন রোধে বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি।
তবে বিশেষ সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করে থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, পুলিশ কারো সাথে কোনো চুক্তি করেনি। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত সড়কে চলাচলকারি অবৈধ মাটিবাহী ট্রাক্টর আটক করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। তবে শুনেছি স¤প্রতি সময়ে পুকুর মালিকরা কোথাও কোথাও গোপনে রাতের আঁধারে খনন কাজ করছে। কিন্তু সকালে অভিযানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যেখানে ফসলি জমিতে পুকুর খনন হবে সেখানেই জেল জরিমানা দেয়া হবে।
