আলো ডেস্ক: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় বাবার দেওয়া বিষে মারা যাওয়া দুই শিশুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় জানাজা শেষে উপজেলার কেন্দ্রীয় গোরস্থানে শিশু রিমন ও ইমরানকে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল শনিবার সকালে দিনাজপুর এম. আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে দুই শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় নিহত দুই শিশুর লাশ দাদার বাড়ি বিরল উপজেলার শংকরপুর গ্রামে নেওয়া হয়। এদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টায় নিহত দুই শিশুর মা কুলসুম বানু লাশ দেখতে গেলে স্থানীয়রা তাকে তাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার জন্য তিনি পাশের সাইফুল ইসলামের বাসায় আশ্রয় নেন। শেষপর্যন্ত এলাকাবাসী তাকে সন্তানদের লাশ দেখতে দেয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবা-মা দুজনই ওই শিশুদের খুনি। তাদের লাশ দেখার কোনো অধিকার নেই। অন্যদিকে, দুই শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার ঘটনায় বাবা শরিফুল ইসলাম ও মা কুলসুম বানুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার আলী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার কারণেই আজ বাচ্চা দুইটাকে মেরে ফেলা হলো। বাচ্চাদের হত্যার পেছনে তারা দুজনই জড়িত। তাই দুইজনের ফাঁসি চাই আমরা। মুক্তা পারভিন বলেন, আমার বাসা একটু দূরে।
কিন্তু এরকম মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে বাচ্চাগুলোকে একবার দেখার জন্য এসেছি। ওই শিশুদের হত্যার পেছনে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নিহত দুই শিশুর চাচা রাশেদুল ইসলাম আশিক বলেন, শরিফুল আমার ছোট ভাই। আর রিমন ও ইমরান আমার ভাতিজা। ছোটবেলা থেকে তাদের আমি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি। কয়েকমাস ধরে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক ঝামেলা চলছিল। একপর্যায়ে স্ত্রী তাকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। এরপর শরিফুল বাচ্চাদের নিয়ে ঢাকাও গিয়েছিল।
কিন্তু সেখানে আমার ভাইকে নানানভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে বাচ্চাদের নিয়ে সে বাসায় ফিরে আসে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে শরিফুল খুব ভেঙে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করলো। এর জন্য ওর স্ত্রীও দায়ী। শরিফুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসন এখন যা সাজা দেবে তা দেক। আমাদের কোনো দাবি নেই। এ বিষয়ে কুলসুম বানুর বক্তব্য নিতে গেলে বাসায় আশ্রয় দেওয়া সাইফুল বলেন, কুলসুম মিডিয়ায় কোনো কথা বলবেন না।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুন বলেন, দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় শরিফুলকে একমাত্র আসামি করে গত শুক্রবার রাতেই কুলসুম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শরিফুলের সঙ্গে কুলসুমের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে এক মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়।
এরপর স্ত্রী ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। ছাড়াছাড়ির পর থেকে সন্তানদের নিয়ে তাদের মধ্যে গণ্ডগোল শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শরিফুল ও তার দুই ছেলে নিখোঁজ ছিল। গত শুক্রবার সকালে শরিফুল স্বজনদের ফোন দিয়ে সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান। পরে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঘর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
