আলো ডেস্ক: বগুড়ায় নিজ বাড়ি থেকে জামাল উদ্দিন খাজা (৫৮) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে শহরের বৃন্দাবনপাড়া পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামাল ওই এলাকার মৃত আমির হোসেন খলিফার ছেলে। তিনি ফুয়াং নামের এক বেকারিতে কাজ করতেন। পুলিশের ধারণা, গত শুক্রবার রাতে জামালের বাড়িতে দুর্বৃত্ত তার মাথায় ভারি কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের পর হত্যা করেছে। পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার জামালের স্ত্রী তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চাঁদমুহাতে ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতে যান। এজন্য জামাল গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার ছেলে রিমন বাড়িতে ফিরে এসে ডাকাডাকি করলেও তিনি সাড়া দেননি। দীর্ঘসময় পর রিমন মই দিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি দেখতে পান জামাল নিজ ঘরের মেঝেতে কম্বলের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের ছাঁদ দেওয়া ইটের বাড়ি জামালের। সেই বাড়িতে চারটি ঘর আছে। এরমধ্যে একটি ঘরে তিনি ও তার স্ত্রী থাকতেন। আরেকটি ঘরে থাকেন তার ছেলে রিমন।
এ ছাড়া বাড়ির আরও একটি ঘর বন্ধ ও আরেকটি ঘরে মাজার রয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, জামালের বাড়িতে থাকা মাজার বগুড়ার মহাস্থান গড়ে থাকা অধ্যাত্মিক দরবেশ শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ারের সহযোগীর। শতশত বছর আগে থেকেই শহরে বৃন্দাবন পাড়া এলাকায় এ মাজার আছে। পারিবারিকভাবে জামালের বাড়ির মধ্যে এ মাজারের জায়গাটি পড়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির মধ্যে মাজার থাকলেও জামাল এ নিয়ে কোনো আলাদা তরিকত বা কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে না। তবে তিনি এ মাজারের ভক্ত ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে দোয়া দরুদ পড়তেন।
তানভীর রহমান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে জামালের বাড়ির পাশে থাকা ছাত্রীনিবাসের মেয়েরা তার গোঙ্গানির আওয়াজ শুনতে পান। এ বিষয়ে তারা ওই ছাত্রীনিবাসের মালিককে জানালে স্থানীয়দেরসহ জামালের বাড়ির গেটে ডাকাডাকিও করা হয়। তবে সেই সময় কেউ সাড়া না দিলে সবাই আবারও নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। মোহাম্মাদ বজলু নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, জামালের কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। তবে তার বাড়িতে থাকা মাজারে ভক্ত ছিল সে।
আর এই মাজার আমরা আমাদের বাপ দাদার সময় থেকে দেখে আসছি। বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল মুন্নাফ বলেন, ঘটনার ক্রাইম সিন সংরক্ষণ রেখে কাজ শুরু হয়েছে। তার বাড়ির মধ্যে মাজার আছে বিধায় বিষয়টি আমরা সংবেদনশীলভাবে দেখছি। এরইমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দল কাজ শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জ থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন টিন বগুড়ার উদ্দেশ্য রওনা করেছে। তাদের কাজ শেষে জামালের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
