আলো ডেস্ক: বিএনপির নেতাকর্মীকে রংপুরে গণসমাবেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমানকে (৪৫) গত শনিবার বিকালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাহবুব হোসেন। গতকাল রোববার তিনি বলেন, “রংপুরে বিএনপির সমাবেশে লোকজন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তার পরিবর্তে আরেক চালক আবুল হোসেনকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “মাহবুব হোসেন আরও বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পাবার পর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।” তদন্তে কমিটির কর্মকর্তারা হলেন, আহবায়ক- হাসপাতালের অর্থপেডিকস সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা; সদস্য- আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিশ্বেশ্বর বর্মন এবং এনেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মাহবুবর রহমান।
কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমান মোবাইলে বলেন, “গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জনৈক ব্যক্তি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এসে একজন ‘গুরুতর অসুস্থ রোগী’ রংপুর নিয়ে যাবেন বলে জানান। তিনি আমাকে শহরের খানকাশরীফ এলাকায় যেতে বলেন। “আমি গিয়ে দেখি, সেখানে কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাদের মধ্যে কিছু লোকজনকে চিনতে পারে। তারা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী।
একারণে আমি আর তাদের বহন করিনি। “এসময় তারা জোর করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পড়ে দাবি করে তিনি বলেন, “তারা অ্যাম্বুলেন্সে উঠে মোবাইল ফোনে ছবি উঠায়। তার সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করে। এবং আমাকে বলে- ‘এখন মজা বুঝবে’। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেয়।”
গত শনিবার দুপুরে রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রংপুরে দুইদিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে তারা মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে রংপুর গণসমাবেশে যোগ দিতে যান।
