আলো ডেস্ক: এই সরকার সব খেয়ে ফেলেছে, কিছু বাকি রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আমাদের যত অর্জন ছিল, যত স্বপ্ন ছিল, সব ধ্বংস করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, যেদিকে তাকাই শুধু চুরি আর চুরি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ করতেও চুরি হয়।
বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এমনকী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিতেও টাকা দিতে হয়। এই সরকার সব খেয়ে ফেলেছে কিছু বাকি রাখেনি। এই সরকার সর্বভুক সরকারে পরিণত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার মিথ্যা মামলায় আটকে রেখেছে দাবি করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলীয় ৬০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আলেম-ওলামাদেরও হয়রানি করতে ছাড়েনি। এই সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন কঠিন দুঃসময়। দেশে দুর্ভিক্ষ হলে মানুষ কোথায় যাবে? দেশে দুর্ভিক্ষ হলে সব দায় শেখ হাসিনার। ১৯৭৪ সালেও শেখ হাসিনার বাবার আমলে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। মানুষ না খেয়ে মারা গেছে।
নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াতে চেয়েছিল এই সরকার। এখন চালের কেজি ৬০ টাকা। ডাল, ডিম, চিনিসহ শাক-সবজির দামও আকাশচুম্বী। এ সময় সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, কিন্তু আমরা দেখছি আপনারা চিতল মাছ খান। বিদেশে যান। এসি রুমে থাকেন। শুধু মুখে বড় বড় কথা বলেন আপনারা। সমাবেশ গতকাল শনিবার দুপুরে শুরু হলেও গত শুক্রবার রাত থেকেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করে হাজার হাজার নেতাকর্মী। রাতভর সেখানেই ছিলেন তারা। ভোর থেকে বাড়তে থাকে জন¯্রােত। যে যেভাবে পেরেছেন সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রয়োজনে জাতীয় সরকার হবে। যারা আন্দোলন করেছে তাদের নিয়ে হবে। দেশের অর্থনীতি মেরামত করার জন্য সরকার কাজ করবেন। এ সরকার সব শেষ করে দিয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, হাসিনা বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিলে চাকরি হয়। ঘুষখোর, ভোট চোর। তাকে আর দেখতে চায়না মানুষ। ১৫ বছর ধরে অত্যাচার চালিয়েছে, সর্বনাশ করেছে। অর্থনীতি খেয়েছে। এখন বাংলাদেশ খাওয়ার পায়তারা করছে। তিনি বলেন, গৃহবন্দী আছেন নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি অসুস্থ, তবুও তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয় নাই। পরিবার, চিকিৎসক বলেছেন তাকে বাইরে পাঠানো দরকার। সে সুযোগও দেওয়া হয় নাই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হয়েছে। ৬০০ বেশি মানুষকে গুম করেছে। হত্যা করেছে অনেককে।
দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এতদিন কি বললেন, দেশ মধ্য আয়ের হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হয়ে গেছে। অথচ মানুষ খাবার পায় না। সব কিছুর দাম অতিরিক্ত। কি খেয়ে থাকবে মানুষ। ফখরুল বলেন, মার্কিন রিপোর্ট বলেছে, এ সরকার মিথ্যা বলে। মানবাধিকার নিয়ে যে রিপোর্ট দেয় তা মিথ্যা। নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতায় এসেছে এ সরকার। বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, মানুষ এখন তাদের রুখে দেবে। বন্দুক, পিস্তল, লাঠি, রিভলবার সব ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে। একনায়ক হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে মানুষ জেগে উঠবে। রংপুরের মহাসমাবেশে নতুন সরকারের রূপরেখা দিয়ে তিনি বলেন,‘আমাদের একটাই দাবি সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।
তার আগেই আমাদের এমপিরা পদত্যাগ করবে। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তাদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দ এবং মনের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন। নতুন পার্লামেন্ট গঠন করা হবে। ফখরুল বলেন, সবার অংশগ্রহণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে পরাজিত করে নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠন করা হবে- সেই সরকার হবে জাতীয় সরকার। সেই সরকার বাংলাদেশে যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, দেশে অর্থনৈতিক যে দুরবস্থা দেখা দিয়েছে, রাজনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে সেসব আবার মেরামতের জন্য জাতীয় সরকার কাজ করবে। তিনি জনগণকে সরকার পতনের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহবান জানান।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের দলের যে কয়েকজন এমপি রয়েছে তাদের দল যখনই নির্দেশ দেবে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবে। এজন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। ২০১৪ আর ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন বাংলাদেশে আর করতে দেবো না, সেটা হবেও না। সোজা কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না- বাংলাদেশে এটা আমাদের সাফ কথা। গণসমাবেশে বক্তব্য দেন- রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামা সামুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দলের মহাসচিব শহিদুল ইসলাম (বাবুল), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনোকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল প্রমুখ।
