আলো ডেস্ক: ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। ঢাকা জেলার সম্মেলন আজ রোববার ও টাঙ্গাইল জেলার সম্মেলন হবে আগামী মঙ্গলবার। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ঢাকা বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলো ঢাকা ও টাঙ্গাইল। সম্মেলনের মাধ্যমে এ দুই জেলার নতুন নেতা নির্বাচিত হবে। তিনি বলেন, দুইভাবেই নেতা নির্বাচন হতে পারে। কাউন্সিলরদের সমঝোতার ভিত্তিতে অথবা তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। কাউন্সিলররা যেটা মনে করবেন সেভাবে সিদ্ধান্ত হবে। ঢাকা জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক বলেন, রোববার নবাবগঞ্জের কলাকোপায় তার বাড়ির সামনের মাঠে এ সম্মেলন হবে।
বাড়ির সামনে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোথাও ভেন্যুর অনুমতি না পাওয়ায় নিজস্ব আঙিনায় করতে হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলা বিএনপির শীর্ষ পদ পেতে দীর্ঘদিন থেকে লবিং করছেন বর্তমান সভাপতি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে তমিজ উদ্দিন, খোরশেদ আলম, নাজিম উদ্দিন (ভিপি নাজিম), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। এর বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
জানা গেছে, গত জুনে ঢাকা জেলা বিএনপির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সে সময় সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন মাসেও সেই সম্মেলন করতে পারেনি ঢাকা জেলা বিএনপি। এ কারণে নেতাকর্মীরা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ করে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা আবার চাঙা হয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, সঙ্গত কারণেই ঢাকা মহানগরের পরে ঢাকা জেলা রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য এ জেলার কমিটিতে পদ-পদবি পেতে অনেকেই আগ্রহী হয়ে থাকেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা দুবারের নির্বাচিত সাবেক নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক এবার সভাপতি পদে আসতে চান।
যদিও গতকাল শনিবার সকালে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, আমার নিজের কোনো পদ পাওয়ার ইচ্ছে নেই। দলের কাউন্সিলররা যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি সেটাই মেনে নেব। দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান সভাপতি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও খন্দকার আবু আশফাকের মধ্যে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সরাসরি ভোট হলে আরও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সিলেকশন হলে এ দুজনের মধ্যে একজন সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ১৯৮১ সালে ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসি। ১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি ছিলাম ১৯৯০ সালে।
২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। একইসঙ্গে ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ছিলাম। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নওয়াবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা সঠিক মনে হয়নি বলে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সর্বশেষ আংশিক ৫৬ জনের কমিটি হয়। পরে ২০১৮ সালে ২৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়। ওই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। যিনি এখনও ওই পদে আছেন। একইসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন খন্দকার আবু আশফাক। এবারের সম্মেলনে মোট ১০টি ইউনিটে এক হাজার ১০ জন কাউন্সিলর তাদের মতামত তুলে ধরবেন। মূলত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সরাসরি ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি পদগুলো সিলেকশনে হবে বলে জানা গেছে।
