আলো ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়াটা জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমি কী পড়ছি, সেটি বুঝে পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটি আনন্দের সঙ্গে পাঠের বিষয় হলে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে পড়বে ও শিখতে পারবে। আমরা সে কাজটি করার চেষ্টা করছি। গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে বিশ্ব শিশু কন্যা দিবস ২০২২ উপলক্ষে ‘রুম টু রিডের’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছেলে ও মেয়েদের সমঅধিকার বা আলাদা করার কিছু নেই।
আমরা চাই উভয়ের যার যেখানে যেটি প্রয়োজন সেটি নিশ্চিত করতে। ছেলে বা মেয়েদের বেড়ে উঠতে কোনো বাধা থাকবে না। মুক্ত আকাশের মতো তারা বড় হবে। দীপু মনি বলেন, জীবনে যত প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় সেখান থেকে নতুন শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়। করোনা মহামারি আমাদের সেটি প্রমাণ করে দিয়েছে। পৃথিবীতে কোনো প্রতিক‚লতা মানুষকে বেঁধে রাখতে পারে না, সেখান থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই নারী-পুরুষ হিসেবে আলাদা করে নয়, উভয়কে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার ভালো ফল করাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভালো মানুষ হিসেবে সহমর্মিতা, নীতি-আদর্শ ও ভালো মানুষ হওয়াটা বেশি জরুরি। আমরা শিক্ষার্থীদের সেভাবে গড়ে তুলতে চাই। পরীক্ষার প্রতি গুরুত্ব কমিয়ে তারা জেটি পড়ছে সেটি যেন বুঝে ও শিখে পড়তে পারে। সেভাবে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পড়তে ও বুঝতে পারবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজক সংগঠনের কর্মী প্রমুখ।
এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কাজী বশির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ৪১তম সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিগগিরই ৩৩ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠাগার তৈরি করা হবে। আর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব বিদ্যালয়ে পাঠাগার করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠাগার তৈরির একটি প্রকল্প আমাদের ৩০০টি বিদ্যালয়ে ছিল। সেটি আমরা ৩৩ হাজার বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে চাই। এর জন্য অনেক বড় বিনিয়োগ লাগছে, কিন্তু আমরা সেটি করবো। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগেছিল। আশা করি শিগগিরই কাজ শুরু হবে। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ থাকবে না। তারপরও এ বছর যা বাস্তবায়িত হবে, আগামী বছর তা আরও পরিশীলিতভাবে করতে পারবো বলে আশা করি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে পাঠাগার চালু করার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছি। আমাদের অনেক বেশি মনিটর করতে হবে। এজন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল কানেক্টে আনার চেষ্টা করছি, যাতে আমরা এক জায়গায় বসে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত দেখতে পাই। ডিজিটাল হয়ে গেলে আমরা পাঠাগারের কার্যক্রমও দেখতে পাবো।
তিনি আরও বলেন, পাঠাগারের একটা ঘর আছে, একটি আলমারি আছে, এগুলোতে তালা মারা থাকে, ভেতরে ধুলাবালু পড়ে থাকে, তেমন যেনো না হয়। পাঠাগারের কাজ ঠিকমতো হওয়া প্রয়োজন। লাইব্রেরিয়ান পদটিকে শিক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সেটি যেহেতু করা হয়েছে, তাহলে পাঠাগারের উন্নয়ন অবশ্যই হবে। প্রকাশকদের পক্ষে পুরস্কার হিসেবে বই দেওয়ার প্রস্তাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুরস্কারের নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে যে কয়েক জায়গায় গিয়েছি, প্লেট-বাসন, এটা-ওটা দিয়েছে।
এর বদলে এখন বই দেওয়ার কাজটি শুরু হয়েছে। এটি হয়তো আরও ব্যাপকভাবে হতে হবে। আমরা যত বেশি প্রচার করতে পারবো। দীপু মনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুধু অনুরোধ নয়, নির্দেশনা দিচ্ছি। আরও বেশি মনিটর করবো। আপনারা (প্রকাশকরা) আরও বেশি মনে করিয়ে দিতে থাকবেন। তাহলে আরও বেশি মনিটার করার সুযোগ তৈরি হবে।
