স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহীতে আট লাখ টাকায় ট্রাক কেনা ব্যক্তিকে ট্রাক ও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ঐ পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত হামিদের ছেলে মোঃ আরিফ (৫৫)।
ঘটনা সুত্রে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি’২২ ৮ লাখ টাকায় ট্রাক বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী আরিফ ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরেও, ট্রাক মালিক আজাদ হোসেন ট্রাক বা টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকিসহ বাড়িতে মাস্তান বাহিনী পাঠিয়েও হয়রানি করছে।
ভুক্তভোগী আরিফ বলেন, গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭ টার সময় আজাদ হোসেন ২০/৩০ জনের একটি মাস্তান বাহিনী নিয়ে আরিফের বাসায় আসে। এসময় তার সঙ্গে থাকা মানুষজন নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে দাবি করেন। এমনকি জোর পূর্বক বাসায় প্রবেশ করে তার স্ত্রীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি প্রদান করে। আরিফ হৃদরোগে আত্রান্ত। এসময় মাস্তান বাহিনীর জোরাজোরিতে আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অজ্ঞান হয়ে গেলে মাস্তান বাহিনী পালিয়ে যায়। (সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ সংগৃহীত)।
তিনি আরও বলেন, মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের আবছার আলীর ছেলে আজাদ হোসেন তাকে ধর্ম পিতা বানিয়েছিলো। সেই সুবাদে তার বাসায় আশা যাওয়াও ছিলো। অর্থনৈতিক সমস্যায় সে তার ট্রাকটি বিক্রি করতে চাইলে আমি তা ক্রয় করতে সম্মতি জানাই। সে অনুযায়ী তিনশত টাকার ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী আমি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করি। এরপর সে গাড়িটি আমার কাছে হস্তান্তর করে না। টাকাও ফেরত দেয় না। পরবর্তীতে টাকা চাইতে গেলে সে উল্টো হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করে। এরপর থেকে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে তার বাসায় পাঠাতে থাকে। তারা মুলত চুক্তির কাগজপত্র গুলো ফেরত নিতে আসে, যাতে আমি মামলা করতে না পারি, আর তাদেরকে টাকাও দিতে না হয়।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে জানুয়ারী মাসের দিকে বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। অভিযোগটি মালোপাড়া ফাঁড়ির বাবর নামে একজন তদন্তও করেছিলেন। এখন আবার সে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাসায় আসছে। গত ২৩ জুলাই সে ৩০ জনের মত মানুষ নিয়ে আমার বাসায় এসেছিলো। তিনি আরও জানান পরিবার পরিজন নিয়ে এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে আরিফ বলেন, থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আজাদ হোসেনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
