আলো ডেস্ক: সরকার উন্নয়নের নামে জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে মাফিয়াদের লুট করার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। সরকারি দলের মাফিয়া লুটেরা আগামী নির্বাচনে এই কালো টাকার প্রভাব দেখাবে।
কালো টাকার প্রভাবে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সীমাহীন লুটপাট ও রেলের দুর্নীতি- অব্যবস্থাপনার’ বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ এই সমাবেশের আয়োজন করে। নুর বলেন, সরকার বলছে তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তো প্রতিনিয়তই প্রকৃতমূল্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুতের খুচরা রেট কয়েক বছরে ৯০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডাকসুর সাবেক বলেন, বর্তমানে দুটি বিষয় আমাদের সামনে দৃশ্যমান। একটি রেলের দুর্নীতি-অনিয়ম, আরেকটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ।
রেলের কালোবিড়াল চলে গেছে, কিন্তু দুর্নীতি শেষ হয়ে যায়নি। একজনের পর আরেকজন আসছে। এই সরকার যে উন্নয়নের মিথ্যা বুলি আমাদের সামনে দেখাচ্ছে, সেটা এখন সবার সামনে প্রকাশ পেয়েছে। দুর্নীতি শুধু রেল ও বিদ্যুতে নয়, সরকারের প্রত্যেকটা জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিদ্যুতে লোকশান দিতে হচ্ছে জানিয়ে নুর বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ যারা পাচ্ছে সবাই সরকারি দলের লুটেরা মাফিয়া। তারা উন্নয়নের নামে নেতাকর্মীদের ভাগ-বাটোয়ারার একটা পকেট খুলে দিয়েছেন।
এখন বাংলাদেশের গোঁজামিলের উন্নয়নের হিসাব জনগণের সামনে এখন উন্মোচিত হয়েছে। আপনারা জানলে অবাক হবেন, গত দেড় বছরে সরকার ৭০ হাজার কোটি টাকা শুধুমাত্র তাদের মাফিয়া লুটেরাদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এতদিন আমরা রাজনীতিবিদরা বলছি, এখন অর্থনীতিবিদরাও বলছেন যে, বাংলাদেশ এখন খাদের কিনারায়। কিন্তু সরকার এসব তথ্য বিশ্বাস না করে গুজব ছড়িয়ে থাকে। তারা বলছে, তারা কারো কথা বিশ্বাস করবে না।
আইএমএফ’র রিজার্ভের হিসাব তারা বিশ্বাস করবে না। আইএমএফ বলছে, রিজার্ভের হিসাব ৩১ বিলিয়ন ডলারের মতো। কিন্তু সরকার বলছে, সেটি ৪০ বিলিয়নের কাছাকাছি। কারণ তারা বাজেটের আগে অনুমানভিত্তিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি একটি সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়। এখন যখন অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, তারা সেটি বিশ্বাস করতে নারাজ। তিনি বলেন, উন্নয়নের মুলা ঝুলিয়ে জনগণকে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে সরকার। এখন আরেকটা বাঁশ ধরিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার সময় অপেক্ষা করছে।
কাজেই জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই বাস আপনাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার আগে আপনারা ওদের হাতে বাঁশ ধরিয়ে দেবেন কি না। গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুর বলেন, আবারও একটা ভীতসন্ত্রস্ত পরিস্থিতি তৈরি করে ২০১৪ এর মতো বিনাভোটের নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় থাকার খোয়াব দেখছে।বিরোধীদলগুলো যদি নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে রাজপথে নামে, ক্ষমতায় থাকার সেই খোয়াব দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। কারণ আজকে তরুণসমাজের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়নি।
যে যার জায়গা থেকে প্রতিবাদে নেমে পড়েছে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে এই বিনাভোটের সরকারকের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করে পাড়া-মহল্লায় গণজাগরণ ফেরানো। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি গণভবন থেকে বের হন, জনগণের দুঃখকষ্ট দেখেন। আপনার সামনে একটা কাচের দেয়াল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আপনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, আপনি এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে আছেন। কারা আপনাকে এই বন্দিদশায় রেখেছে, তাদের কথায় আর কর্ণপাত করবেন না।
