হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন পিকে হালদারের বান্ধবী
আলো ডেস্ক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বান্ধবী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাইয়ের করা জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২০ জুন নতুন দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার এএসএম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুনাইয়ের পক্ষে করা সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘নট টুডে’ মর্মে এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। আর আসামি নাহিদ রুনাইয়ের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল। এ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে গত ২৫ এপ্রিল জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন নাহিদা রুনাই। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে জামিন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে তা পিছিয়ে দেন আদালত। দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৯ মে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে নাহিদা রুনাইয়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। গত বছরের ১৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে নাহিদা রুনাইকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
দুদক অবৈধ ক্যাসিনো মালিকদের সম্পদের তদন্ত শুরু করলে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি দুদক প্রায় ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর গত বছরের ২ ডিসেম্বর আদালত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কানাডায় অবস্থানকারী পি কে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
পি কে হালদারের অর্থপাচারের বিষয়গুলো দেখভাল করতেন নাহিদা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ওপর মহলকে ম্যানেজ করতেন তিনি। আর এসব কাজের পুরস্কার হিসেবে নাহিদাকে শূন্য থেকে কোটিপতি বানান পি কে হালদার। দুদক কর্মকর্তারা জানান, পি কের টাকা পাচারের অন্যতম সহযোগী এই নাহিদা রুনাই। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কত টাকা আত্মসাৎ ও পাচার হচ্ছে সেই হিসাব রাখতেন রুনাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মহলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে রুনাইয়ের দক্ষতা অপরিসীম।
তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে সিদ্ধহস্ত। দুদকের অনুসন্ধান দলের একজন কর্মকর্তা বলেন, পি কে হালদারের দখলে থাকা ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজের ১০০ কোটি টাকা নিজের মতো করে খরচ করার সুযোগ পান রুনাই। এ ছাড়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিতে (বিআইএফসি) রুনাইয়ের প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মতো।
