স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহীর বাজারে ধানের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে মণপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভরা মৌসুমে ধান-চালের দাম বেশি হওয়ার কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়ার পরপরই ধানের দাম কমেছে। কিন্তু চালের দামে এর কোন প্রভাবই পড়েনি।
চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহের উপর ভিত্তি করে চালের বাজার নির্ধারিত হয়। এখন পর্যন্ত চালের সরবরাহ তেমন বাড়েনি। একারণে চালের দামও কমেনি। তবে চালের দাম আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় ধানের মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোকামগুলোতে গত তিনদিন আগেও ধানের সরবরাহ অনেক কম ছিলো। সে সময় প্রতিমণ আঠাশ ধান বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৩০০ থেকে সাড়ে ১৪০০ টাকা। জিরা বা মিনিকেট ধান বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ সাড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। যা মঙ্গলবার ও বুধবার মণপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। প্রতিমণ আঠাশ ধান বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১২০০ থেকে সাড়ে ১৩০০ টাকা। জিরা বা মিনিকেট ধান বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ সাড়ে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা।
ধানের পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে ধান কাটারপর এসময়ে মোকামগুলোতে প্রচুর ধান থাকে। একারণে ধানের দামও কম থাকে। কিন্তু এখন যে ধান বাজারে এসেছে তার পরিমাণ কম। এরমধ্যে চালের বড় বড় মিল মালিকরা বেশি দামে ধান কিনে মজুদ করছেন।
পবা উপজেলার রবিউল ইসলাম নামের পাইকারি ক্রেতা বলেন, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। প্রতি হাটে ২০ থেকে ৩০ মণ কিনে সেটা শুকিয়ে বাজারে চাল বিক্রি করি। বড় মিল মালিকরা বেশি দামে ধান কিনে নিচ্ছেন। এরমধ্যে ধানের সরবরাহ কম। একারণে বিগত মৌসুমে যে ধান প্রতিমণ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটা এখন সাড়ে ১৩০০, সাড়ে ১৪০০, ১৫০০ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, ধানের দামের অজুহাতে নগরীর বাজারে বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম কমার কোন আভাস নায়। বৃহস্পতিবার (২ জুন) নগরীর বাজারে প্রতিকেজি আঠাশ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৪ থেকে ৬০ টাকা। জিরা বা মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৮ টাকা।
‘এ.পি চাউল ভান্ডার’-এর মালিক মিলন জানান, গত এক সপ্তাহে চালের দাম উঠানামা করেনি। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা দাম বেড়েছিলো। সরবরাহ বাড়লে চালের দাম বাড়বে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে দাম দু’এক টাকা কমতে পারে।
পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ‘সততা চাউল ভান্ডার’-এর ম্যানেজার সোলাইমান আলী জানান, তারা ৮৪ কেজির বস্তা আঠাশ চাল ৫ হাজার টাকা এবং জিরা বা মিনিকেট চাল ৪৭০০ থেকে ৪৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এটা নতুন চাল। তাদের কাছে পুরাতন চাল নেই। পুরাতন চালের বস্তাপ্রতি আরও ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি। আর ধানের দাম কমেছে। এর প্রভাব এখনো চালের বাজারে পড়েনি। সামনে হয়তো কমতে পারে।
রাজশাহীতে বড় বড় মিল মালিকদের অনেকেই অবৈধভাবে মজুদ বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা নিচ্ছেন এমন অভিযোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চালের খুচরা বিক্রেতাসহ ক্রেতাদের। যার সত্যতাও শিকার করছেন রাজশাহী ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. দিলদার মাহমুদ। তিনি জানান, জেলায় বৈধ মিল রয়েছে ১৪৮ টি। এর বাইরে অনেক মিল অবৈধভাবে আছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান।
তিনি আরও জানান, বৈধ মিলগুলোর মধ্যেও অনেকে অবৈধভাবে মজুদ করে। বিভিন্ন সময় পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। কিন্তু এসব রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এককভাবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।
